https://asia24.tv


ডাকসু ভবন। ছবি: -ফাইল ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া পৃথক ওয়েবসাইট চালুর উদ্যোগকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। দেশের ভাষা আন্দোলন ও মহান স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সংগ্রহশালায় প্রদর্শনের সুযোগ নেই। প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, একই দিন দুপুরে জিন্নাহর ছবিটি ছিঁড়ে ফেলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ডাকসুর পক্ষ থেকে সম্প্রতি শিক্ষকদের মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে অনুমোদনহীন একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার স্পষ্ট লঙ্ঘন। শিক্ষক মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক বিষয়। কোনো ব্যক্তি বা ছাত্র সংসদ নিজেদের উদ্যোগে পৃথক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালাতে পারে না। অননুমোদিত ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করাও আইনি অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, শিক্ষকদের মূল্যায়নের (টিচিং ইভালুয়েশন) জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনুমোদিত নীতিমালা রয়েছে এবং তা চালুর প্রক্রিয়াধীন। অনুমোদিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে নেওয়া এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন বা সমান্তরাল কাঠামো তৈরির সুযোগ নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ডাকসু একটি প্রতিনিধি সংস্থা হলেও এর কার্যক্রম প্রশাসনিক আইনের অধীনে পরিচালিত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষা এবং অনুমোদন ছাড়া অবকাঠামো বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালুর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


