https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা সংস্কারের অংশ হিসেবে স্থান পাওয়া পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় সরাসরি প্রবেশ করে ছবি তিনটি ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের ওই শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র এবং ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ছবি ছিঁড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তৈয়ব বলেন, “আমাদের ভাষা আন্দোলনের আসল বীর ও নায়কদের বাদ দিয়ে ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের জাঁদরেল নেতা জিন্নাহর ছবি কেন রাখা হলো, তার স্পষ্ট জবাব প্রশাসন ও ডাকসু নেতাদের দিতে হবে। যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তাকে কোনোভাবেই ঢাবিতে মেনে নেওয়া যায় না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক চেতনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ—সব সংগ্রামে রক্ত দিয়েছে। এখানে স্থান পেতে হবে ভাষা আন্দোলনের বীর আবুল কাসেম, শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের ছবি।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘ সংস্কার কাজ শেষে রবিবার ডাকসু সংগ্রহশালাটি পুনরায় সর্বসাধারণের জন্য চালু করা হয়। তবে সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের একক ছবি জায়গা না পেলেও বিতর্কিতভাবে যুক্ত করা হয় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি চিত্র।
এর মধ্যে একটি ছিল ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের ছবি, যেখানে তিনি ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ বলে বিতর্কিত ঘোষণা দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়টি ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের নিখিল ভারত মুসলিম লীগের গ্রুপ ছবি এবং তৃতীয়টি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন সম্পর্কিত পাকিস্তানের তৎকালীন ‘ডন’ পত্রিকার একটি পেপার কাটিং।
এদিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার সকালে এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে বলে, “শিবির নিয়ন্ত্রিত এই ডাকসু পরিষদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও ‘পাকিস্তান প্রেম’ প্রকাশ করছে।” ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই বিতর্কিত উদ্যোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।


