https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সম্প্রতি গঠিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের তিনটি কমিটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ৫২ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা সতর্ক করে জানান, সরকারের এসব একতরফা পদক্ষেপ পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাকে আরও দীর্ঘায়িত করবে এবং দমন-পীড়নের নতুন পথ উন্মুক্ত করবে।
বিবৃতিতে নাগরিকেরা উল্লেখ করেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি’, ‘নির্বাহী কমিটি’ এবং ‘পরামর্শক কমিটি’ গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। তবে এসব কমিটির সচিবালয় সংক্রান্ত মূল দায়িত্ব ও সুবিধা নিরাপত্তা বাহিনীকে অর্পণ করায় এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের সিদ্ধান্ত শাসক দল বিএনপির প্রতিশ্রুত ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের রাজনৈতিক ইশতেহারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় তিন দশক পার হলেও মূল ধারাগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি পাহাড়ি জনগণ পূর্ণ সমর্থন দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করলেও, সরকারের এসব প্রশাসনিক পদক্ষেপে আদিবাসীদের মতামতকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অ-পাহাড়ি প্রতিনিধি নিয়োগ এবং সাবেক আমলা ও সামরিক প্রেসক্রিপশনে পাহাড়ি সমস্যা সমাধানের চেষ্টাকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ‘নিজেরা করি’র নির্বাহী প্রধান খুশী কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও সুব্রত চৌধুরী, বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ।


