https://asia24.tv


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। ছবি: -সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি যৌথ ও সমন্বিত ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ গ্রহণ করে মাঠপর্যায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে আগেই তা প্রতিরোধ করা বহুগুণে কার্যকর—এই নীতিকে সামনে রেখে প্রতিরোধমূলক সব কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, সাধারণত আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসকে ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকি বা ‘পিক পিরিয়ড’ হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যাওয়ার আগেই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। যদিও পরিসংখ্যান অনুযায়ী এবার আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম, তবু সরকারের কোনো দফতরে আত্মতুষ্টির ন্যূনতম সুযোগ নেই।
দুই দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর সূচনা করা তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের কথা স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে নতুন প্রজন্মকে সামাজিক পরিবর্তনের অংশীদার করা হচ্ছে, যেন ডেঙ্গুর সংক্রমণ সারাদেশে ছড়াতে না পারে। তিনি বলেন, “চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই শ্রেয়। আমরা যদি রোগের বিস্তার শুরুতেই ঠেকাতে পারি, তবে চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে তা অনেক সহজ ও কার্যকর হবে।”
ডেঙ্গুর বৈশ্বিক ইতিহাস উল্লেখ করে ড. মঈন খান বলেন, প্রায় দুই হাজার বছর ধরে বিশ্বজুড়ে মানুষ এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিখুঁত করতে এই অতীত অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস পর্যালোচনা করা অত্যাবশ্যক। ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতা এবং বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে প্রতিটি সংস্থাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার ইফফাত মাহমুদ।
উচ্চপর্যায়ের এই কর্মশালায় স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, আইসিডিডিআর,বি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর, নিপসম, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার প্রতিনিধি এবং কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা সম্মিলিত কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।


