https://asia24.tv


ছবি: এপি। ছবি: -সংগৃহীত
ইয়েমেনের একটি সামরিক গোষ্ঠী গাইডেড রকেট ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট ‘ক্লড’ ব্যবহারের চেষ্টা করেছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। প্রতিষ্ঠানটির সাময়িক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অবৈধ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে তারা উত্তর ইয়েমেনভিত্তিক একটি ঝুঁকি সৃষ্টিকারী চক্রকে শনাক্ত করেছে। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল ও রাজধানী সানা বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এই অপতৎপরতায় তারাই জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যানথ্রোপিকের ভাষ্যমতে, উক্ত দলটি মূলত তিনটি বড় ধরনের অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনায় এআই প্রযুক্তির সহযোগিতা নিচ্ছিল। এর মধ্যে ছিল সাধারণ স্মার্টফোন-গ্রেডের ফ্লাইট কম্পিউটার ও হোমিং গাইডেন্স নির্ভর একটি গাইডেড রকেট, দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরপাল্লার বহুধাপবিশিষ্ট ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল ভ্যারিয়েন্টসহ বহুমুখী প্রযুক্তির দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। এয়ারবোর্ন এসব অস্ত্রের গাইডেন্স, নেভিগেশন ও অত্যাধুনিক কন্ট্রোল সফটওয়্যার তৈরিতেই চ্যাটবটটির প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা তৈরিতে সাধারণ অবস্থায় একটি অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দলের প্রয়োজন হতো।
তবে এআই ব্যবহার করে গোষ্ঠীটি কোনো ক্ষতিকর ডিভাইস তৈরিতে সফল হয়েছিল বা তা যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করতে পেরেছিল—এমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও চক্রটি একটি গাইডেড রকেটের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছিল, যা ব্যর্থ হয়। অ্যানথ্রোপিক জানায়, ফিল্ড টেস্টটি ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবহারকারীরা সেই ব্যর্থতার মূল কারণ অনুসন্ধান করতে পুনরায় ক্লড-এর দ্বারস্থ হয়। বিষয়টি শনাক্ত করার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট সমস্ত বেআইনি অ্যাকাউন্ট অবিলম্বে নিষিদ্ধ ও ব্লক করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটি।
এমন এক সময়ে এই আশঙ্কাজনক তথ্য প্রকাশ্যে এলো, যখন ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী দলটি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব আল-মানদেব’ প্রণালি অভিমুখে দেশজুড়ে নতুন করে বৃহৎ সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সচল রাখা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এ ঘটনাকে বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি ও সামরিক বিশ্লেষকরা।


