https://asia24.tv


যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দর। ছবি: -ফাইল ছবি
যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল ও অনির্দিষ্টকালের জন্য বিলম্বিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশজুড়ে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী চরম চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের জাতীয় এয়ার ট্রাফিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাটস’-এর মূল ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে হঠাৎ যান্ত্রিক বিভ্রাট দেখা দেয়। এর জেরে সারা দেশে প্রায় ১,০০০টি বাণিজ্যিক ফ্লাইট সরাসরি বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাজ্যের মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি এই কারিগরি বিপর্যয়ের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতেও। এর মধ্যে জনপ্রিয় বিমান সংস্থা ‘ইজিজেট’ তাদের প্রায় ২০০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং ‘ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ’ বাতিল ঘোষণা করেছে ১০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক রুট। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ বাজেট এয়ারলাইন্স ‘রায়ানএয়ার’ জানিয়েছে, এই আকাশপথ অচলাবস্থার কারণে তাদের প্রায় ৬৫ হাজারেরও বেশি যাত্রী বিমানবন্দরে আট ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
প্রশাসনিক ও বিমান চলাচলের দিক থেকে ইউরোপের সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমানবন্দর লন্ডনের ‘হিথ্রো’তে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে হিথ্রো থেকে সব ধরনের বিমান উড্ডয়ন সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। হিথ্রো ছাড়াও গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম বিমানবন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উড্ডয়ন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় রানওয়েতে অবতরণের অপেক্ষায় থাকা ফ্লাইটের জট লেগে যায় এবং একপর্যায়ে টার্মিনালে বিমান পার্কিংয়ের ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যায়।
ন্যাটসের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা মার্টিন রোলফ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন সিস্টেম বিপর্যয়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ঠিক কী কারণে সুরক্ষিত এই নেটওয়ার্কে কারিগরি সমস্যা তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে ন্যাটসের এই গাফিলতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রায়ানএয়ার ও উইজ এয়ারসহ একাধিক বিমান সংস্থা। উইজ এয়ার স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমান কাঠামোর ন্যাটস আর সঠিকভাবে এয়ার ট্রাফিক সামলানোর সক্ষমতা রাখে না।
বিপর্যয় কাটানো সম্ভব হলেও বিমানবন্দরে যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় জটলা এড়াতে ফ্লাইট ছাড়ার পূর্ব মুহূর্তের আপডেট তথ্য যাচাই করে তবেই টার্মিনালে আসার অনুরোধ জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষগুলো।


