ঢাকা
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertise with us

রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার তাগিদ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৩ বার পঠিত
রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার তাগিদ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

ছবি: -সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আকুল আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পার হলেও এই মানবিক বিপর্যয়কে কোনো অবস্থাতেই স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ নিজে এই জটিল সংকট সৃষ্টি করেনি, তাই একা এর সমাধান করাও কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘প্রোট্র্যাক্টেড রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: দ্য সার্চ ফর এ কমপ্রিহেনসিভ অ্যাপ্রোচ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গা সমস্যার মূল উৎপাটনে মিয়ানমার সরকারের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, কেবল সাময়িক মানবিক সহায়তা দিয়ে এই দীর্ঘমেয়াদি মানবিক বিপর্যয়ের অবসান ঘটানো যাবে না। সংঘাতের মূল কেন্দ্রস্থল মিয়ানমারকেই এর স্থায়ী ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় গঠিত ‘জাতীয় রোহিঙ্গা কৌশল প্রণয়ন কমিটি’ সরকারের সামগ্রিক কূটনৈতিক, মানবিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উদ্যোগগুলোকে একটি কার্যকর সমন্বিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় আলোচনার শীর্ষ এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে চীনসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারদের সহযোগিতায় মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল, পরিবর্তনশীল ও নাজুক। সেখানে মূল ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র দলগুলোর সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এক নয়। তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের স্থানীয়ভাবে পুনর্বাসন বা স্থায়ীভাবে একীভূত করার চিন্তাভাবনা কখনোই কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না।

উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে রোহিঙ্গা সংকটের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব ভাগাভাগি, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসন, আন্তর্জাতিক আদালতে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয় কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের যৌথ উদ্যোগে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরেন সার্ভিস একাডেমি ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সার্বিক সহযোগিতায় এই সম্মেলনটি আয়োজিত হয়। সম্মেলনের চূড়ান্ত আলোচনার ওপর ভিত্তি করে সরকারের জাতীয় নীতিনির্ধারণে সহায়তার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ‘পলিসি ব্রিফ’ তৈরি করা হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানানো হয়েছে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa