ঢাকা
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফাটল-রাজস্ব ফাঁকি অপচয় ও দুর্নীতির অর্থনীতি ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে দুর্নীতি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধে দুদকের আকস্মিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ১৬ ডিসেম্বরেই আংশিক চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল: বিমানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া অনভিপ্রেত: তথ্য উপদেষ্টা সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা অর্ধেকে নামাল সরকার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ উদ্যোগ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নিলামে পণ্য বিক্রি করে ৬০০ কোটি টাকার মাইলফলক ছুঁল চট্টগ্রাম কাস্টমস লক্ষ্মীপুরে হোটেল দখলচেষ্টা: বিএনপি নেতাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
Advertise with us

ইরান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনা পরিবারকে ভাতা দেবে না পেন্টাগন, ‘কারণ এটি যুদ্ধ নয়’

ডেস্ক রিপোর্ট
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৬ বার পঠিত
ইরান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনা পরিবারকে ভাতা দেবে না পেন্টাগন, ‘কারণ এটি যুদ্ধ নয়’

নিহত মার্কিন সেনা মেজর অ্যালেক্স ক্লিনারের স্ত্রী লিবি ক্লিনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানালে তা ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: টেলিগ্রাফ  ছবি: -সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের প্রাপ্য নিয়মিত বেতন ও সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা না করায় নিহতের পরিবারের জন্য বরাদ্দ বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি নিয়ে এক জটিল বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানো ৩৩ বছর বয়সী মার্কিন বিমানবাহিনীর মেজর অ্যালেক্স ক্লিনারের স্ত্রী লিবি ক্লিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী দেশের হয়ে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করলেও মার্কিন বিমানবাহিনী তাঁকে নির্দিষ্ট কিছু অতিরিক্ত সরকারি সুবিধা পাওয়ার অযোগ্য বলে গণ্য করেছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত কোনো ‘যুদ্ধ’ নয়। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে পশ্চিম ইরাকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সহায়তাকারী একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্থ হয়ে যে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছিলেন, অ্যালেক্স ছিলেন তাদেরই একজন।

ইরানের বিরুদ্ধে পুরোদমে সংঘাত শুরুর পর গত ছয় মাসেরও বেশি সময়ে ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং অন্তত ৭৮০ জন আহত হয়েছেন। লিবি ক্লিনার বিশ্বখ্যাত বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, “আমার স্বামী স্পষ্টতই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ প্রশাসনিক পরিভাষার অযুহাতে আমাকে বলা হয়, এটি কারিগরিভাবে কোনো যুদ্ধ না হওয়ায় আমরা কিছু সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হব। শোকাকুল পরিবারের সামনে এটি শেষ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক নীতির প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে মার্কিন বিমানবাহিনী দ্রুত বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলে। পরবর্তীতে মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, স্বজনহারা পরিবারকে শুরুতে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। বিমানবাহিনী স্পষ্ট করে যে, মেজর ক্লিনারের শেষ বেতন-চেকে ঝুঁকিভাতা এবং যুদ্ধ-সম্পর্কিত কর ছাড় যুক্ত ছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করা হলেও প্রতি মাসে ২২৫ ডলার মূল্যের ‘যুদ্ধকালীন ভাতা’ যে কোনো সেনাসদস্যের জন্য প্রযোজ্য থাকে, যা ভুলবশত আলাদা করে দেখানো হয়নি।

এই ঘটনার পর এক বিবৃতিতে লিবি ক্লিনার বলেন, “কোনো ‘গোল্ড স্টার’ পরিবারকে—অর্থাৎ দেশের সেবায় স্বজন হারানো সামরিক পরিবারকে—প্রাপ্য অধিকার বোঝার জন্য সরকারের ব্যবহৃত জটিল ভাষার বিশেষজ্ঞ হতে বাধ্য করা উচিত নয়। আমার স্বামী ঝুঁকি জেনেও দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন, সবচেয়ে খারাপ কিছু ঘটলে তাঁর পরিবারের দেখভাল রাষ্ট্রই করবে।”

সাধারণত কোনো মার্কিন সেনাসদস্য সামরিক ভাতা ও আর্থিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা নির্ধারণে তাঁর মোতায়েনস্থল ও দায়িত্বের ধরণ বিবেচনা করা হয়। তবে বাস্তবে বছরে বহুবার বেতন-চেকে পরিবর্তন আসায় পেন্টাগনের খাতায় প্রায়ই চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সংঘাতের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভ্যান্স ইরানে সামরিক অভিযানকে ‘যুদ্ধ’ বলতে অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে সেখানে ‘সক্রিয়ভাবে গোলাগুলি’ হচ্ছে না।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোপূর্বে বিভিন্ন ভাষণে এটিকে যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, শুক্রবার তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের বক্তব্যের সুরেই তাল মেলান। ট্রাম্প বলেন, “অনেকেই এটিকে প্রথাগত যুদ্ধ বলছে না। আমি এটিকে কেবল একটি সীমিত সামরিক সংঘাত বলি, কারণ আমাদের জন্য এটি খুবই সামান্য ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিষয়।”

এদিকে কেবল নিহতদের পরিবারই নয়, যুদ্ধাহত সেনাদের পরিবারগুলোও অভিযোগ করেছে যে পেন্টাগন আহতদের আঘাতের মাত্রা কম করে দেখাচ্ছে এবং সঠিক চিকিৎসাসেবা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। যদিও সেনাবাহিনী এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে জানা যায়, সেনাসদস্য দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) ওপর আহতদের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না।

এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিহত সেনাসদস্যদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেছেন, যার মধ্যে ২৫ বছর বয়সী নিহত লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহানের বাবা-মাও রয়েছেন। ফিহানের মা শারি ফিহান জানান, প্রেসিডেন্ট তাঁদের বেদনা উপলব্ধি করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

সূত্র: টেলিগ্রাফ

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa