https://asia24.tv


সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: -সংগৃহীত
ক্যান্সার ও জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা রাজধানী থেকে পুরো দেশে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের প্রধান মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে ১৫ তলা বিশিষ্ট সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। নতুন এই হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও সর্বাধুনিক পিইটি-সিটি স্ক্যানের উন্নত চিকিৎসা ও পরীক্ষার সুবিধা থাকবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেশনে ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আট বিভাগীয় শহরের সরকারি মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন প্রাঙ্গণে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রস্তাবিত ভবনগুলোতে অনকোলজি বা ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি কিডনি ও হৃদরোগের জন্য উন্নত সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে ক্যান্সার আক্রান্তদের জন্য ডে-কেয়ার বেড ও নিউক্লিয়ার মেডিসিন ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের আর কষ্ট করে ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, সরকারি খাতে ঢাকায় অবস্থিত ৫০০ শয্যার ‘জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল’ বর্তমানে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। তবে সরকারি অধিকাংশ মেডিকেল কলেজ ও সামরিক হাসপাতালে অনকোলজি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি পর্যায়ে ২৪টি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজসহ আহ্ছানিয়া মিশন ও স্কয়ার, এভারকেয়ারের মতো বৃহৎ হাসপাতালগুলো আলাদা ইউনিটের মাধ্যমে এই সেবা দিচ্ছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পুনর্ব্যক্ত করেন, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য মানসম্মত, আধুনিক ও সুলভ চিকিৎসাসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম মূল অগ্রাধিকার। আঞ্চলিক এই নতুন হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার দীর্ঘদিনের রাজধানীমুখী নির্ভরতা অনেকাংশে ঘুচে যাবে।


