https://asia24.tv


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: বাসস ছবি: -সংগৃহীত
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়মুখী ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের স্কুলে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ধরে রাখতে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। সরকার আগামী বছরের মধ্যে এই কর্মসূচির পরিধি সম্প্রসারিত করে দেশের সকল উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
খাবারের মান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ববি হাজ্জাজ জানান, খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান বজায় রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে স্থানীয় মা-বোনদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে ‘মাদারস কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে খাবার বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাইলট প্রকল্পের পর্যালোচনার ভিত্তিতে খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনে নতুন পুষ্টিকর উপাদান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চতুর্থ শ্রেণিতে নতুন চালু হতে যাওয়া বিষয় সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকে স্পোর্টস ও কালচারাল এডুকেশন বিষয়ক একটি পাঠ্যবই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ২০২৮ সালে এই ব্যাচ পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম কার্যকর করা হবে। আপাতত বিদ্যমান সহকারী শিক্ষকদেরই এ বিষয়ের ওপর তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের প্রশাসনিক সংকট নিরসনে প্রধান শিক্ষকদের আইনি জটিলতা সমাধান ও নিয়োগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে অথবা আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন নিশ্চিত করতে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনোয়ারা ইশরাত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


