ঢাকা
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফাটল-রাজস্ব ফাঁকি অপচয় ও দুর্নীতির অর্থনীতি ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে দুর্নীতি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধে দুদকের আকস্মিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ১৬ ডিসেম্বরেই আংশিক চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল: বিমানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া অনভিপ্রেত: তথ্য উপদেষ্টা সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা অর্ধেকে নামাল সরকার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ উদ্যোগ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নিলামে পণ্য বিক্রি করে ৬০০ কোটি টাকার মাইলফলক ছুঁল চট্টগ্রাম কাস্টমস লক্ষ্মীপুরে হোটেল দখলচেষ্টা: বিএনপি নেতাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
Advertise with us

রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফাটল-রাজস্ব ফাঁকি অপচয় ও দুর্নীতির অর্থনীতি

মো. নাজমুল ইসলাম চৌধুরী , পরিচালক সিসিআরএসবিডি
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ১১ বার পঠিত
রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফাটল-রাজস্ব ফাঁকি অপচয় ও দুর্নীতির অর্থনীতি

ছবি: -প্রতিনিধি

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় রাজস্বের প্রধান উৎস আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস। এই অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত টাকা—যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা ও জাতীয় উন্নয়নে ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু অনিয়ম, অপচয়, দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগগুলো কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা না গেলে জনগণের অর্থই সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়ে।

সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন—ভুয়া বিল-ভাউচার, জাল চেক ও চালান, অতিরিক্ত বিল, কৃত্রিম প্রকল্প ব্যয়, টেন্ডারে কারসাজি, সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর, উৎসে কর ও ভ্যাট না দেওয়া, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, আমদানি মূল্য কম দেখানো, টিকিট ও সেবা জালিয়াতি এবং সরকারি সম্পদ ক্রয় ও নির্মাণে অতিমূল্যায়ন।
একই সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ, সভা-সেমিনার, অফিস ও বাংলো সংস্কার, সরকারি ভবন নির্মাণ, আইসিটি প্রকল্প, অডিও-ভিজ্যুয়াল নির্মাণ, ক্রীড়া-সংস্কৃতি কার্যক্রম, পরামর্শক ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়-সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও প্রকৃত ফলাফল নিশ্চিত করা জরুরি।

সরকারি অডিটও হতে হবে হয়রানি বা ভয়ভীতির হাতিয়ার নয়; বরং অনিয়ম শনাক্ত, অর্থ উদ্ধার এবং দায়ীদের জবাবদিহির কার্যকর ব্যবস্থা। একইভাবে কর ফাঁকি ও রাজস্ব চুরির ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি—কোনো খাতকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
বর্তমান বাস্তবতায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই–এপ্রিল সময়ে মোট রাজস্ব আহরণ ছিল ৩,৮২,৮৯৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে NBR-এর অংশ ৩,২৯,৭৭২ কোটি টাকা; তবু তা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে ছিল। একই সময়ে সরকারের সংশোধিত বাজেট ছিল প্রায় ৭.৯০ লাখ কোটি টাকা।
আবার ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসের সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১,২৯০ কোটি টাকা, বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬,৫৫৯ কোটি টাকা—ঘাটতি ৪,৭৩১ কোটি টাকা। তবে এই ঘাটতিকে সরাসরি দুর্নীতির ক্ষতি বলা যাবে না; আমদানি কমে যাওয়াসহ একাধিক কারণ এতে ভূমিকা রেখেছে।

অতএব প্রয়োজন—
এক. প্রতিটি সরকারি ব্যয়ের ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও উন্মুক্ত তথ্য ।
দুই. ভুয়া বিল-ভাউচার ও জাল চেক শনাক্তে স্বয়ংক্রিয় যাচাই ।
তিন. সরকারি ক্রয়ে পূর্ণাঙ্গ e-GP ও বাজারমূল্য যাচাই
চার. বন্ড, আমদানি ও উৎসে কর ব্যবস্থায় শক্তিশালী ডিজিটাল নজরদারি ।
পাঁচ. অডিট আপত্তির দ্রুত নিষ্পত্তি ও আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার ।
ছয়. রাজস্ব ফাঁকি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দায়ীদের কার্যকর শাস্তি ।
সাত. কর্মকর্তা থেকে ঠিকাদার—সব পক্ষের সম্পদ ও স্বার্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ।

বাংলাদেশের রাজস্ব ঘাটতি শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; এটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা, জনগণের আস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্পদের প্রশ্ন।
করদাতার প্রতিটি টাকা আমানত—অপচয়, আত্মসাৎ ও রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে হতে হবে শূন্য-সহনশীল —
জিরো টলারেন্স ।

 

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa