https://asia24.tv


ছবিতে বেলজিয়ামের নানড্রিন গ্রামের একটি খেতে ক্ষুদ্র আকারের আলু বাড়তে দেখা যাচ্ছে, যা আবহাওয়ার চরমভাবাপন্নতার শিকার ছবি: এএফপি ছবি: -সংগৃহীত
বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মাটির স্বাস্থ্য চরম অবক্ষয়ের মুখে পড়েছে, যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। মাটির মান উন্নয়নে বিজ্ঞানের নানা কার্যকর পদ্ধতি জানা থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক পর্যায়ে সেগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত এক বৈশ্বিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের খাদ্য উৎপাদনের ৯৫ শতাংশ সরাসরি মাটির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি এটি পৃথিবীর মোট জীববৈচিত্র্যের ৫৯ শতাংশ ধারণ করে এবং মহাসাগরের পর বৃহত্তম প্রাকৃতিক কার্বন আধার হিসেবে কাজ করে। এফএও জানিয়েছে, মাটির এই অপরিসীম গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে মাটির অবক্ষয় চরম মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। জরিপকৃত ভূখণ্ডের প্রায় ৫২.৫ শতাংশ অঞ্চলে মাটির ব্যবস্থাপনা ছিল খারাপ বা অত্যন্ত খারাপ, এক-তৃতীয়াংশে মাঝারি এবং মাত্র ১৪ শতাংশ এলাকায় মাটির অবস্থান সন্তোষজনক পাওয়া গেছে।
২০১৫ সালের প্রথম প্রতিবেদনের পর থেকে পৃথিবীতে মানব জনসংখ্যা আরও ৮০ কোটি বেড়েছে। বর্ধিত খাদ্যের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত প্রায় ৮ কোটি হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। অবৈজ্ঞানিক চাষাবাদ ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে বাতাস এবং বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে মাটির উর্বর উপরিভাগ নষ্ট হচ্ছে। মাটির উপাদানের এই ক্ষয়ই মাটির স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া ক্ষতিকর জৈব পদার্থের হ্রাস, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ, দূষণ এবং অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ মাটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে। এর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মাটির অবক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করছে। প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেন, জরিপ করা ভূখণ্ডের মাত্র ১০ শতাংশ অঞ্চলে মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার সামান্য উন্নতি হলেও ৫৮ শতাংশ এলাকাতেই পরিবেশগত অবস্থার অবনতি ঘটেছে।
মাটির অবক্ষয় রোধের অন্যতম কৌশল হলো অতিমাত্রায় জমি চাষ করা কমিয়ে আনা। নিয়মিত ট্রাক্টর বা লাঙল দিয়ে জমি চষা মাটির ভেতরের অনুজীব নষ্ট করে এবং ক্ষয় ত্বরান্বিত করে। বিকল্প হিসেবে জমি অনাবাদী না রেখে ‘কভার ক্রপ’ বা শিম ও সরিষা জাতীয় প্রতিরক্ষামূলক ফসল রোপণ করা, কৃষি-বনায়ন সম্প্রসারণ করা এবং সুষম প্রাকৃতিক সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এফএও জোর দিয়ে বলেছে, মৃত্তিকা সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তবায়নে প্রধান বাধা জ্ঞানের অভাব নয়, বরং কৃষকদের অর্থাভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অপ্রতুলতা। তাই প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় আদিবাসী জ্ঞানের সমন্বয় ঘটানোর জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গোলিয়ার উলানবাটারে মরুভূমিকরণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন ‘কপ-১৭’ চলাকালে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো। বিশ্বজুড়ে খরা ও মাটির ক্ষয় রোধে কার্যকর বৈশ্বিক সমঝোতায় পৌঁছাতে এই সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


