ঢাকা
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertise with us

স্ত্রীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, দুদিন পর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৫ বার পঠিত
স্ত্রীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, দুদিন পর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মুক্তা ইসলাম ও সোহেল শিকদার।  ছবি: -সংগৃহীত

রাজধানীর খিলক্ষেতে স্ত্রীকে খাটের সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের ভিডিও চিত্র শ্যালকের ইমো ও মেসেঞ্জারে পাঠিয়েছেন স্বামী। ঘটনার ঠিক দুদিন পর খিলক্ষেতের একটি ফ্ল্যাট থেকে মুক্তা ইসলাম মাওয়া (২৫) নামের ওই গৃহবধূর রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নির্যাতনকারী স্বামী মো. সোহেল শিকদারকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে যৌতুকলোভী ও হিংস্র সোহেল নিয়মিত মুক্তাকে নির্যাতন করতেন। অবশেষে তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার পর অপরাধ ঢাকতে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মর্মান্তিক এটি হত্যাকাণ্ড নাকি নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা—তা ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পেলেই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খিলক্ষেত এলাকার ৫ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে সিলিং ফ্যানে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মুক্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে খিলক্ষেত থানা-পুলিশ। একই সময়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে সোহেলকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে নিহত মুক্তার ছোট ভাই তানভীর রহমান বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় ঘাতক স্বামী সোহেলসহ চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা ও নির্যাতন মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন সোহেলের ভাগনে আলিফ হোসেন (২২), বোন কাজল বেগম (৪৫) ও বোনের স্বামী মো. বাশার (৫৫)।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের দুদিন আগে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মুক্তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করে সোহেল। সেই নির্যাতনের বিবরণ নিজেই মুঠোফোনে ধারণ করে মুক্তার ভাই তানভীরের মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে সোহেল লেখে, ‘তোমাদের বোনকে এসে নিয়ে যাও, নইলে আজ মেরে ফেলব।’

গ্রেপ্তারের পর সোহেলের মুঠোফোনে আলামত হিসেবে ভিডিওটি জব্দ করেছে খিলক্ষেত থানা-পুলিশ। ধারণকৃত ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুই পা লোহার শিকল দিয়ে খাটের সঙ্গে শক্ত করে বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন মুক্তা। হাতে বেল্ট নিয়ে সোহেল একের পর এক আঘাত করছেন এবং চিৎকার করে বলছেন, ‘কথা বল, তোকে আজ পিটিয়ে মেরেই ফেলব।’ জবাবে যন্ত্রণায় কাতরানো মুক্তা বলছিলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি, বিশ্বাস করো। আমাকে মেরো না, বাচ্চা দুটো কাঁদছে, শুধু ওদের ঘুম পাড়িয়ে আসতে দাও।’

ভিডিওতে পাশের ঘর থেকে তাঁদের সাড়ে ৫ বছরের ছেলে সাফওয়ান ও সাড়ে ৪ বছরের ছোট মেয়ে তাসফিয়ার তীব্র কান্নার আওয়াজ স্পষ্ট ভেসে আসছিল।

মামলার বাদী তানভীর রহমান অভিযোগ করেন, অনৈতিক ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মিথ্যা সন্দেহ চাপিয়ে সোহেল নিয়মিত তাঁর বোনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। সোহেলের বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনে নিয়মিত এই নির্যাতনে ইন্ধন ও প্ররোচনা দিয়ে আসছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব ভৌমিক জানান, মৃত্যুর দুদিন আগের নারকীয় নির্যাতনের ভিডিওটি আসামির মোবাইল ফোনে পাওয়া গেছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল স্ত্রীকে শিকল বেঁধে পেটানোর নির্মম সত্যতা স্বীকার করেছে। তবে মৃত্যুর মূল কারণ জানতে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রক্রিয়ায় নেওয়া হচ্ছে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa