https://asia24.tv


নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ছবি: -ফাইল ছবি
খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত ও ভেজাল প্রতিরোধে দেশজুড়ে জোরদার অভিযানে নেমেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি গত আগস্ট মাসজুড়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে নিরাপদ খাদ্য আইনে সর্বমোট ১ কোটি টাকা জরিমানা আদায় এবং ৫০টি মামলা দায়ের করেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসনাতের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার মান তদারকিতে আগস্ট মাসে মোট ৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় ২৫টি অভিযানের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় ও ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরীর বাইরে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৯টি পৃথক অভিযানে ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি ৩১টি মামলা দায়ের করা হয়। এ ছাড়া বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ ‘সামারি ট্রায়াল’-এর মাধ্যমে ৫টি খাদ্য প্রক্রিয়া জাতকারী প্রতিষ্ঠানকে ৪২ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি ৯টি মামলা দায়ের করা হয়। পুরো আগস্ট মাসে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১১৯৮টি খাদ্যস্থাপনা সরাসরি পরিদর্শন ও মনিটরিং নিশ্চিত করেছে এবং ১৩টি রপ্তানিযোগ্য পণ্যের অনুকূলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসনদ প্রদান করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে গত ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এক সপ্তাহের বিশেষ হালনাগাদ তথ্যও প্রকাশ করা হয়। ওই সাত দিনে ঢাকা ও বিভিন্ন জেলায় অভিযানে মোট ৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৭টি মামলা করা হয়।
এর মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যত্যয়, নকল পণ্য উৎপাদন, পচা-বাসী খাবার বিক্রি এবং ট্রেড লাইসেন্স ও বিএসটিআই সনদ প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩টি মামলা করা হয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম, সিলেট ও লক্ষ্মীপুর জেলায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অনুমোদনহীন ঘি ও কৃত্রিম রঙের ব্যবহার, পোড়াতেল ব্যবহার এবং খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতির দায়ে ১১ লাখ টাকা জরিমানা ও ৪টি মামলা করা হয়।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পরিদর্শনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও মিষ্টির দোকানসহ মোট ১৩৭টি খাদ্যস্থাপনা নিবিড় মনিটরিং করা হয়েছে। মনিটরিং চলাকালে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবেশনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংস্থাটি প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত টিভিসি, স্ক্রলবার্তা ও অডিও-ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।


