ঢাকা
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
১৬ ডিসেম্বরেই আংশিক চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল: বিমানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া অনভিপ্রেত: তথ্য উপদেষ্টা সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা অর্ধেকে নামাল সরকার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ উদ্যোগ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নিলামে পণ্য বিক্রি করে ৬০০ কোটি টাকার মাইলফলক ছুঁল চট্টগ্রাম কাস্টমস লক্ষ্মীপুরে হোটেল দখলচেষ্টা: বিএনপি নেতাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশে: বিবিএস কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট কাটবে, আশ্বস্ত করলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা আট বিভাগে তৈরি হচ্ছে ১৫ তলার ক্যান্সার ও হৃদরোগ হাসপাতাল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
Advertise with us

বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং: হিমাগারের ৭৭ হাজার টন আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ১৩ বার পঠিত
বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং:  হিমাগারের ৭৭ হাজার টন আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা

ছবি: -প্রতিনিধি

তীব্র দাবদাহ ও অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের বিভিন্ন হিমাগারে সংরক্ষিত প্রায় ৭৭ হাজার টন আলু ও বীজ আলু নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এতে   বিপাকে পড়েছেন নীলফামারীর হিমাগার মালিক ও আলুচাষিরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে জেনারেটর চালিয়ে হিমাগারের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে জেলার ১১টি হিমাগারে সংরক্ষিত প্রায় ৭৭ হাজার টন আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বিশেষ করে সংরক্ষিত প্রায় ৪০ হাজার টন বীজ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী মৌসুমে কৃষকদের চাষাবাদে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

হিমাগার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলু ভালো রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা যাওয়ার কারণে হিমাগারের শীতলকরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের মাধ্যমে মেশিন চালু রাখা হলেও তীব্র গরমের কারণে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে পরিচালনা ব্যয় অন্যদিকে বাড়ছে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি।

শাওন হিমাগারের ম্যানেজার নাহিদ হাসান জনি বলেন, হিমাগারের মেশিনগুলো নির্দিষ্ট সময় ধরে চালাতে হয়। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। পরে আবার শুরু থেকে মেশিন চালু করতে হয়। এতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও শ্রম খরচ হচ্ছে। দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে এই ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। হিমাগারে বীজ আলু সংরক্ষণ করা কৃষকরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। আগামী মৌসুমের জন্য সংরক্ষণ করা আলু নষ্ট হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

চওড়া বড়গাছা এলাকার কৃষক রফিক ইসলাম বলেন, আগামী মৌসুমে জমিতে রোপণের জন্য হিমাগারে বীজ আলু রেখেছি। কিন্তু বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে আছি। বীজ আলু নষ্ট হয়ে গেলে পরের বছর ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে। তাই হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

হিমাগারে আসা এক ব্যবসায়ী রাসেল আলী বলেন, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। হিমাগার মালিকরা জেনারেটর চালিয়ে চেষ্টা করছেন, কিন্তু সব মেশিন একসঙ্গে চালানো সম্ভব হয় না। আলু নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে কৃষকদের।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে জেলায় লোডশেডিং বেড়েছে।

উত্তরা হিমাগার নীলফামারীর ব্যবস্থাপক দীপু রায় বলেন, গরমের কারণে এমনিতেই হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেশিন বেশি সময় চালাতে হয়। এর মধ্যে লোডশেডিং হলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। একটি কক্ষ ঠান্ডা করতে এক ঘণ্টা সময় লাগলে ৩০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে গেলে আবার শুরু থেকে কাজ করতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa