https://asia24.tv


জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ছবি: -ফাইল ছবি
রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারির বিরোধিতা করে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় শাস্তির মুখে পড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২১ কর্মকর্তার দণ্ড বাতিল করেছেন রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে আবেদন জানালে তা মঞ্জুর করা হয় এবং তাঁদের সব দণ্ডাদেশ মওকুফের আদেশ দেওয়া হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। রাষ্ট্রপতির এই আদেশের ফলে দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পদমর্যাদা ফিরে পাওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দণ্ড মওকুফ হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) মো. জাকির হোসেন; অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ম, আ.আ.ম. আমীমুল ইহসান খান ও সাধন কুমার কুণ্ডু। এ ছাড়া যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান ও সানোয়ারুল কবির এবং উপ কর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম, শাহাদাৎ জামিল ও মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলামসহ রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর প্রশাসনিক ক্ষমার আওতায় এলেন।
ঘটনার পটভূমি থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের জুন মাসে রাজস্ব খাতের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় একাধিক কর্মকর্তার বদলির আদেশ জারি হয়। আন্দোলনের অংশ হিসেবে কতিপয় কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বদলি আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার চরম লঙ্ঘন এবং ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়।
আন্দোলন চলাকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এনবিআরের প্রধান কার্যালয় অবরুদ্ধ করেন এবং সারা দেশে দুই দিনের কর্মবিরতি পালন করেন। এতে দেশের সার্বিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে থমকে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে এনবিআর চেয়ারম্যানকে সংস্থায় ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি বা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালিত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ‘অত্যাবশ্যকীয় সেবা’ ঘোষণা করে এবং পাঁচজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে এক উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও বিশৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গঠিত বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসর, বরখাস্ত ও বেতন গ্রেড অবনমনসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রদ হলো। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির এই নমনীয় পদক্ষেপে রাজস্ব বোর্ডের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ কমবে এবং সংস্থাটির প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা ফিরে আসবে।


