https://asia24.tv


ছবি: রয়টার্স। ছবি: -সংগৃহীত
ওমান উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা শুরু হয়েছে। প্রায় এক মাসের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির পর গত সপ্তাহ থেকে পুনরুজ্জীবিত হওয়া উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় শনিবার এই সংঘাতের সূচনা ঘটে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সমুদ্রপথে ইরান-সংশ্লিষ্ট দুটি তেলের ট্যাঙ্কার স্থায়ীভাবে অকেজো করে দিয়েছে, যার একটি প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। এ ছাড়া ওমান উপসাগরে অবস্থানরত তৃতীয় আরেকটি ইরানি ট্যাঙ্কার সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, লক্ষ্যবস্তু হওয়া এসব তেলের ট্যাঙ্কার মূলত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়নে ব্যবহূত কোটি কোটি ডলারের অবৈধ ছায়া নেটওয়ার্কের অংশ ছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘আইরিব’ এই মার্কিন হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। তবে তারা দাবি করেছে, মার্কিন আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক জবাবে আইআরজিসি ইউএস-সংশ্লিষ্ট তিনটি সশস্ত্র জাহাজ এবং হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত রুট ব্যবহারকারী আরও তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে সফল পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যদিও সেন্টকমের পক্ষ থেকে মার্কিন জাহাজে ইরানি হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ছয় মাসের দীর্ঘ সংঘাত অবসানে এখনো দৃশ্যমান কূটনৈতিক সমঝোতা না দেখা গেলেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে একটি ‘তুচ্ছ সামরিক বিষয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, মার্কিন জাহাজে ইরান হামলা চালালে তাদের সমুদ্রে থাকা সমস্ত তেলের ট্যাঙ্কার ধ্বংস করে দেওয়া হবে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ট্যাঙ্কারগুলোতে হামলার আগে আইআরজিসির ছোঁড়া একাধিক ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে আকাশে ধ্বংস করে, যা তাদের বিমানবাহী রণতরি ও যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছিল।
ইরানি গণমাধ্যমের সূত্রমতে, খারগ দ্বীপে মার্কিন হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দেশের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের টার্মিনাল দিয়েই পরিবাহিত হয়। ওমান উপসাগরে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য দুটি ট্যাঙ্কার থেকে ক্রুদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইআরজিসির পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী সমুদ্রসীমায় সর্বমোট ছয়টি জাহাজে বিধ্বংসী আক্রমণের খবর দেওয়া হয়।
বিশ্বের সার্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নৌপথটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই একপ্রকার স্থবির হয়ে আছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহনকারী এই প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে খনিজ তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় মূল্য রেকর্ড ৫.৮৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
সম্প্রতি মার্কিন হামলায় দক্ষিণ ইরানের একটি বিয়ের আসরে দুই শিশুসহ চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ পায়। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এই ঘটনাকে পরিষ্কার ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বেসামরিক মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ওয়াশিংটন ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
৬০ দিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের সংকট কাটাতে এবং সামরিক আধিপত্য ধরে রাখতে উভয় পক্ষই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


