https://asia24.tv


জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ও চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ছবি: -সংগৃহীত
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়রের মেয়াদ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিটি মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যকে বিগত আওয়ামী আমলের ‘ফ্যাসিবাদকে সমর্থন’ দেওয়ার নামান্তর বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
শনিবার রাতে নগরীর লালদীঘি ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগের সরকারের পথেই হাঁটছে। তিনি চসিকের বর্তমান মেয়রের বৈধতা ও মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টিকে সুশাসনের বদলে ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নতুন করে নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ জানান।
জামায়াত আমিরের এই মন্তব্যের জবাবে কানাডা থেকে এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ভিডিওতে ১১ দলের ওই কর্মসূচীকে ‘লং ড্রাইভ’ আখ্যা দিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০২১ সালে চসিক নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাশীনদের কারচুপির মাধ্যমে রেজাউল করিমকে মেয়র বানানো হয়েছিল। সেই ভোটচুরির বিরুদ্ধে করা মামলায় নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে মেয়র হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করে। এর ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করার পর তিনি শপথ নেন।
মেয়র শাহাদাত জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের এই ঐতিহাসিক রায় স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বড় আঘাত ছিল। ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী বিগত মেয়রের মেয়াদ অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় বর্তমানে মেয়রের আইনি মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বহাল। কিন্তু জামায়াত আমিরের বক্তব্যে অবৈধ ফ্যাসিবাদী মেয়াদকে বৈধতা দেওয়ার মতো সুর ফুটে উঠেছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ ছেড়ে দেওয়ার মনোভাব স্পষ্ট করে শাহাদাত হোসেন জানান, নির্বাচন কমিশন চসিক নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা করলেই তিনি পদত্যাগ করবেন। গণতান্ত্রিক ধারাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীতে একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।


