https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
ইরান বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের সামরিক হামলার সক্ষমতা নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপে ফেলতে এবং বিশ্বপরিস্থিতি জটিল করে তুলতে দেশটি আরও কয়েক মাস পর্যন্ত সংঘাত চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বার্তার ভিত্তিতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত এখনো কিছুটা সীমিত পরিসরে থাকলেও গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত মিলছে যে, ইরানি শীর্ষ নেতৃত্ব বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর পরিকল্পনা করতে পারে। চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিজেদের প্রকৃত সামরিক শক্তি ও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ায় তেহরানের আত্মবিশ্বাস বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়, এই পরিস্থিতিতে সহজে কোনো শান্তি সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে চায় ইরান। এর অংশ হিসেবে দেশটি গত জুলাইয়ের মতো পুনরায় কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে পারে—যেমন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আকস্মিক হামলা চালানো।
তেহরান মনে করছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং কোনোভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়বে। আর এই অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যবৃদ্ধি আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি ইরানি হ্যাকাররাও নতুন করে সংগঠিত হয়ে সাইবার হামলার ক্ষেত্রে সরাসরি বড় হুমকি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মার্কিন সাইবার স্পেসে হামলা চালিয়ে যুদ্ধপ্রচেষ্টার বিরুদ্ধে মার্কিন সাধারণ জনগণের জনমতকে প্রভাবিত করার কৌশল নিতে পারে তেহরান।
তবে সাইবার হামলার এই ঝুঁকি প্রসঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এক সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন, “আমেরিকানদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার মতো ইরানের সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। একেবারে শূন্য না হলেও তা বেশ কম। এই ক্ষেত্রে আমরা অন্যান্য পক্ষের সাইবার হুমকি নিয়ে অনেক বেশি সতর্ক রয়েছি।”
রাজনৈতিক প্রচারণার ক্ষেত্রেও মেটার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন তুলে ধরে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ইরান থেকে পরিচালিত একটি সুসংগঠিত অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কিন রাজনীতি নিয়ে রিপাবলিকানবিরোধী মতামত ও বিভিন্ন তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করা।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদ ও অস্ত্রসম্ভারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আলঅ্যারাবিয়া ইংলিশ


