https://asia24.tv


ছবি: বাসস ছবি: -সংগৃহীত
কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। আন্তর্জাতিক বাজার ও বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানির তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত নানা পদক্ষেপের ফলে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে সৃষ্ট এই সাময়িক সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে জানান তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘এনার্জি সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ: ফ্রম ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টু এ রেজিলেন্ট এনার্জি ট্রানজিশন’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই ইতিবাচক খবরের কথা ব্যক্ত করেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত মারাত্মক ভঙ্গুর অবস্থায় পড়েছিল। আগের নীতি কাঠামোর দুর্বলতায় এই খাত গভীর আর্থিক সংকট ও কৌশলগত দিকনির্দেশনাহীনতার মুখে পড়ে। বিগত আমলের আমদানিনির্ভর ভ্রান্ত নীতির সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, জনগণকে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক এক কঠিন ফাঁদে ফেলে দিয়ে পুরো খাতের ওপর কৃত্রিম চাপ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই নাজুক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে টেকসই ভারসাম্য তৈরির লক্ষ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনার ওপর জোর দেন তিনি। জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকার একই সঙ্গে নতুন এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণ, পাইপলাইন সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন কূপ খননের বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত এগোচ্ছে।
ভিএলসি কার্গোতে সরাসরি গ্যাস আমদানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, সরকারি পর্যায়ে বড় জাহাজে গ্যাস আমদানির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে খোলা বাজারে এলপিজির মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে। বিগত সরকারের প্রতিষ্ঠিত অলিগার্ক বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সম্ভব হলে ভোক্তা পর্যায় সরাসরি উপকৃত হবে।
দেশের একমাত্র মেগা প্রজেক্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্নিনির্বাপক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শতভাগ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পূর্বে কোনোভাবেই কেন্দ্রটি চালু করা হবে না। ২০২৭ সালে এই কেন্দ্রটিকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে নিয়ে আসার সম্ভাব্য সময়সীমা ধরা হলেও যেকোনো মূল্যে নাগরিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত থাকবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতের সিদ্ধান্তগুলো স্বল্পমেয়াদি মুনাফার দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া বিপজ্জনক। বরং সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতেই ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারিত হতে হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সার্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মতো শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান, এসটেক্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মনজুর আলম প্রধানসহ খাতসংশ্লিষ্ট শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাগণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন।


