https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
বর্তমান সরকার যদি দেশের জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সংকট সমাধানে ব্যর্থ হয়, তবে অনতিবিলম্বে সক্ষম ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। বর্তমান প্রশাসন যদি মনে করে যে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তাদের নেই, তবে দেশ পরিচালনায় যোগ্য ব্যক্তির অভাব নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ১১ দলীয় জোটে বহু বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি রয়েছেন, যারা সংকট মোকাবিলায় সক্ষম; প্রয়োজনে তাঁদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া উচিত।
রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির অবনতির চিত্র তুলে ধরে এনসিপির এই মুখপাত্র দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে যে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকারের বিগত ছয় মাসের মেয়াদে তা আরও অবনতি ঘটেছে। মানুষ আবার অতীতের চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের দিকে ফিরে যাচ্ছে। গ্যাসের সংকট, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ইন্টারনেটের মূল্যবৃদ্ধি ও ধীরগতির খবরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বদলে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিকভাবে আবার পিছনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার ও নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, মূল অর্থনৈতিক ও নাগরিক সমস্যা সমাধান না করে সরকার পূর্বে ব্যর্থ হওয়া কিছু অপ্রাসঙ্গিক প্রকল্পে মনোনিবেশ করেছে। খাল খনন কর্মসূচিতে অনিয়ম ও কাজ না করেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে। অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও বিশেষ কার্ড প্রদানের উদ্যোগকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বাসায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকলে কাজের নিশ্চয়তা দিয়ে কোনো লাভ নেই। জনগণকে এমন সুযোগ দেওয়া দরকার যেন ঘরে প্রয়োজনীয় গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় থাকে।
পাশাপাশি সরকারের ঘোষিত বিশাল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাস্তবে এই উদ্যোগের কোনো দৃশ্যমান প্রভাব নেই। জনভোগান্তি কমানোর প্রধান গ্যারান্টি না দিয়ে অনাবশ্যক পদক্ষেপে সরকার পুরো দেশকে এখন এক গভীর খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা একটি নির্বাচিত সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব হলেও বর্তমান প্রশাসন সেখানে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
ইন্টারনেটের গতি কমানো ও পরিষেবা খাতের বেহাল দশা নিয়ে খোভ প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, জনগণ ডিজিটাল যুগের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পিছিয়ে পড়ছে। এমতাবস্থায় সরকারের উচিত দ্রুত দেশের সার্বিক খাত সংস্কার করা, অথবা ব্যর্থতা স্বীকার করে সরে দাঁড়ানো।
লংমার্চ কর্মসূচির সফল সমাপ্তির কথা উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরতেই ১১ দলীয় জোট এই রাজপথের কর্মসূচি পালন করেছে। গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সুনির্দিষ্ট গণদাবি বাস্তবায়নের লক্ষে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই নাগরিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জোর আহ্বান জানান তিনি।


