https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রীর একটি গাড়ি আটকে স্থানীয়দের ‘মিষ্টির টাকা’ দাবি করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বরসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় কনের বাড়ির উদ্দেশে বরযাত্রী নিয়ে একটি গাড়ি যাচ্ছিল। পথে গাবতলী বাজারে পৌঁছালে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কয়েকজন যুবক গাড়ি আটকিয়ে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার স্থানীয় কাজলের লোকজনের সঙ্গে বারঘড়িয়া এলাকার আশকর আলীর বংশের বরপক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এতে বর মো. হানিফ, তার বাবা হবি মিয়াসহ দুপক্ষের অন্তত অর্ধশত লোকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরযাত্রীর গাড়ি আটকিয়ে টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করেই প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কাজল মিয়া বলেন, তারা জামাই নিয়ে যাচ্ছিল। গাবতলী বাজারে পৌঁছালে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে এক অটোরিকশার চালকের সঙ্গে জামাই পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। তখন আমার লোকজন তাদের ঝগড়া না করার জন্য বলেন। এ নিয়ে একপর্যায়ে বর পক্ষের লোকজনের সঙ্গে মারামারি হয়। এতে আমাদের পক্ষের ১৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, বারঘড়িয়া এলাকার আশকর আলীর বংশের বরপক্ষের হেলাল উদ্দিন বলেন, জামাইয়ের গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। গাবতলী বাজারে পৌঁছালে কাজলের ভাই-ভাতিজারা গাড়ি আটকিয়ে মিষ্টির টাকা চান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঝগড়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে আমাদের পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


