https://asia24.tv


রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: -সংগৃহীত
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে ভারতের কাছে নতুন কোনো আপডেট তথ্য নেই বলে সাফ জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ)। এর পাশাপাশি তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না থাকলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিকল্প কেউ প্রতিনিধিত্ব করবেন কি না—এ বিষয়ে ঢাকার অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি দিল্লি।
নয়া দিল্লিতে আয়োজিত মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা নিশ্চিত করেন। সাংবাদিকরা বাংলাদেশে সরকারের পরিবর্তন ও সার্বিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ও ব্রিকসে যোগদান চূড়ান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে জানান, বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কাঠামোগত বিষয় নিয়ে তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য পৌঁছায়নি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ও মন্তব্য নিয়েও রণধীর জয়সওয়ালের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন, তাঁর স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের অপ্রকাশ্য বা ব্যাক-চ্যানেল আলোচনা পরিচালিত হয়নি। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার জন্য নিজের সুরক্ষাসহ তিনটি মৌলিক শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন—যাবতীয় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা বজায় রাখা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
এসব শর্ত বা দাবি নিয়ে শেখ হাসিনা ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আবেদন জানিয়েছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র অত্যন্ত সংক্ষেপে উত্তর দিয়ে বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।”
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন নয়া দিল্লি সফর নিয়ে কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিক্রিয়া সামনে এলো। এর আগে ঢাকা থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, সরকারপ্রধানের স্তরের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সফরের জন্য আরও সুনির্দিষ্ট ও অনুকূল পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। তবে দুই দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে বিশ্ব অর্থনীতির উদীয়মান জোট ব্রিকসের এই সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। চীন সরকারের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এতে অংশ নেবেন বলে আন্তর্জাতিকভাবে ধারণা করা হলেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও চূড়ান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।


