https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত এলএসডি (লাম্পি স্কিন ডিজিজ) ভ্যাকসিন বাজারজাত করা সম্ভব হলে দেশের গবাদিপশু ভাইরাসমুক্ত থাকবে, খামারিদের চিকিৎসা ও টিকাদান ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং সার্বিক প্রাণিসম্পদ খাত অনেক বেশি টেকসই হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
শুক্রবার কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রাইচু ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত এলএসডি ও গোটপক্স ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন এবং মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, গবাদিপশুর মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি এলএসডি ছড়িয়ে পড়লে খামারিদের ব্যাপক আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয়। দেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি প্রতিষেধকের চাহিদা রয়েছে। এতদিন সম্পূর্ণ বিদেশ থেকে আমদানি করা সুরক্ষাসামগ্রীর ওপর বাধ্য হয়ে নির্ভর করতে হতো। এখন দেশীয় বিজ্ঞানীদের হাত ধরে এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সহজলভ্যতা বাড়বে এবং খামারিদের উৎপাদন খরচ হ্রাস পাবে। রোগটির দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে খামারিদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিয়মিত টিকাদান ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
গবাদিপশুর লালন-পালন ও খাদ্য ব্যয় কমাতে বিএলআরআই উদ্ভাবিত উচ্চ-পুষ্টিমানসম্পন্ন নতুন জাতের ঘাস চাষের তাগিদ দেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন এই ঘাসে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রোটিন বিদ্যমান, যা চাষ করলে দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে এবং কম খরচে মানসম্মত গোখাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এর পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ ছাগল সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। এই কর্মসূচির অধীনে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, উন্নত জাত সরবরাহ ও বিপণন সহায়তার মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে, যেখানে নারী ও তরুণদের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে সুস্বাদু মাংস ও চামড়ার চড়া চাহিদা থাকায় বৈজ্ঞানিক উপায়ে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন গ্রামীণ অর্থনীতি জোরদার এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় খামারি উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির প্রারম্ভিক ধাপে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় গবাদিপশুর মাঝে দুই হাজার ডোজ দেশীয় এলএসডি এবং একশত ডোজ গোটপক্স ভ্যাকসিন বিনামূল্যে প্রয়োগের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়।


