ঢাকা
২৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আইনি সহায়তার বিশেষ আবেদন পলকের চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণকাজ শুরু আগামীকাল, ১ লাখ কর্মসংস্থানের আশা ‘এটা কেবল শুরু’: সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী কাউন্সিলর একরাম হত্যা : হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন যেসব বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি বানাবে বিএনপি বাংলাদেশীদের জন্য ফের ভিসা আবেদনে যে নির্দেশনা দিল যুক্তরাষ্ট্র আজ বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
Advertise with us

চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণকাজ শুরু আগামীকাল, ১ লাখ কর্মসংস্থানের আশা

ডেস্ক রিপোর্ট
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬   ১ বার পঠিত
চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণকাজ শুরু আগামীকাল, ১ লাখ কর্মসংস্থানের আশা

সিইআইজেড।  ছবি: -সংগৃহীত

এক দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বহুলপ্রতীক্ষিত চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। প্রকল্পটিতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং ১ লাখেরও বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা করা হচ্ছে।
আগামীকাল সকাল ১০টায় আনোয়ারায় প্রকল্প এলাকায় প্রধান অবকাঠামো নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পটির কাজ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে নির্ধারিত রয়েছে। তবে বেজার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম তিন বছরের মধ্যেই অন্তত ৬০ শতাংশ শিল্প প্লট কারখানা নির্মাণের উপযোগী করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক জানান, এটি দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও মজবুত করবে। অন্যদিকে, বিজিএমইএ পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব বলেন, চীনা উৎপাদনকারীরা এই অঞ্চলে উপকরণ তৈরি ও সরবরাহ করলে তৈরি পোশাক খাতের লিড টাইম ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে উন্নত টেক্সটাইল, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো রপ্তানিমুখী খাতের পাশাপাশি দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হবেন।
গত ২২ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর এই প্রকল্পে দৃশ্যমান ও দ্রুত গতি আসে। ওই সফরের সময় বিনিয়োগ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি চুক্তি সই হয় এবং ২৫ জুন বেজা ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনের (সিআরবিসি) মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি বিনিময় হয়। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, ইতিমধ্যেই ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি এই অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এর আগে গত ১৬ জুন একনেক সভায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার একটি সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে চীন সরকার রেয়াতি অর্থায়নে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা দেবে এবং বাকি অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার। এই সহায়ক অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে জেটি সংযোগ সড়ক, সেতু, চার লেনের রাস্তা, ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), বহুমুখী জেটি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, জলাধার এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানাপ্রাচীর।
কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি কৌশলগত অবস্থানে থাকার কারণে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল শক্তিশালী পরিবহন ও লজিস্টিক সুবিধা পাবে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে দুই দেশ এই প্রকল্পের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করলেও ডেভেলপার নিয়োগে বিলম্ব, অর্থায়ন ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা দীর্ঘদিন আটকে ছিল। অবশেষ নানা বাধা পেরিয়ে আলোর মুখ দেখতে যাওয়া এই প্রকল্প বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক বিনিয়োগের গতি ধারাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa