ঢাকা
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertise with us

থার্ড টার্মিনাল ১৬ ডিসেম্বর আংশিক চালুর লক্ষ্য

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৪ বার পঠিত
থার্ড টার্মিনাল ১৬ ডিসেম্বর আংশিক চালুর লক্ষ্য

থার্ড টার্মিনাল।  ছবি: -ফাইল ছবি

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এই প্রশাসনিক আলোচনার মধ্য দিয়ে টার্মিনালটি চালুর চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটল।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল সরেজমিনে পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বরের শুভ বিজয় দিবসে টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালুর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, উদ্বোধনী দিনে বা প্রাথমিক পর্যায়ে টার্মিনালটি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে যাত্রীসেবা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক এভিয়েশন কার্যক্রমের পরিধি ব্যাপকভাবে প্রসারিত করা হবে।

সম্মিলিত আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে বেবিচকের অন্যতম প্রশাসনিক মুখপাত্র মুহাম্মদ কায়সার মাহমুদ জানান, থার্ড টার্মিনাল গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও পরিচালনায় নিযুক্ত জাপানি সাব-ওয়ার্কিং গ্রুপের পেশ করা চূড়ান্ত প্রস্তাবের বিস্তৃত কারিগরি এবং আর্থিক মূল্যায়ন ইতোমধ্যে সফলভাবে শেষ করা হয়েছে। এই মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমানে যৌথ নেগোসিয়েশন বা আলোচনা চলছে, যা আগামী আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি এই বিশাল মেগা প্রজেক্টটি আন্তর্জাতিক মানে নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ‘লেটার অব অ্যাশিওরেন্স’ গ্রহণের প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলোও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে।

জাপানি কনসোর্টিয়ামের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বিমানবন্দর পরিচালনায় চুক্তিভিত্তিক রাজস্ব ভাগাভাগির প্রধান কাঠামোগত বিষয়গুলো উভয় পক্ষের সম্মতিতে ইতোমধ্যেই চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন কেবল মূল চুক্তির শর্তাবলী ও নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই আইনি প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হবে বলে তাঁরা শতভাগ আশাবাদী।

পর্যটনমন্ত্রী মিল্লাত জানান, আংশিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ পরিচালনায় যেতে আরও তিন থেকে পাঁচ মাস সময় লাগবে। ফলে ২০২৭ সালের মার্চ বা এপ্রিল নাগাদ থার্ড টার্মিনালটির পূর্ণ রূপ দেখতে পাবে দেশবাসী। তিনি বিগত সরকারের নীতিগত সমালোচনা করে বলেন, অপরিহার্য যন্ত্রপাতি সংযোগ, সফটওয়্যার টেস্ট এবং ‘অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার’ (ওরাট) প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ রেখেই অতীতে তড়িঘড়ি করে টার্মিনালের লোকদেখানো ‘সফট ওপেনিং’ করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার এসে থমকে থাকা ওরাট কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেছে, যা ইতোমধ্যে ৫৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৪৩ শতাংশ প্রস্তুতিমূলক কাজ যৌথ কনসোর্টিয়াম দ্রুত শেষ করবে।

বাণিজ্যিক দিক তুলে ধরে মন্ত্রী প্রকাশ করেন একটি বড় ধরনের সুখবর। তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ নীতিপ্রণেতাদের সফল বার্গেইনিংয়ের ফলে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার মাধ্যমে অর্জিত বাৎসরিক রাজস্ব থেকে বাংলাদেশের নির্ধারিত শেয়ার ১৫ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। এই অতিরিক্ত আয় থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের জন্য নেওয়া জাপানি মেগা ঋণের কিস্তি পরিশোধকে সরকারের জন্য অনেক বেশি সহজ ও সাশ্রয়ী করবে। ইতোমধ্যে বেবিচক নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ১,১০০ কোটি টাকা ঋণের কিস্তি বাবদ পরিশোধ করেছে এবং আগামী ডিসেম্বরে আরও ৯০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রসঙ্গে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বিদেশি বাণিজ্যিক অপারেটরের মধ্যে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ কীভাবে আনুপাতিক হারে বন্টন হবে, তা চলমান আলোচনার মাধ্যমে আইনি রূপ পাবে। তবে বিমানকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও আধুনিকীকরণে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। সর্বোপরি, বিমান অবতরণের ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিটের মধ্যে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের হাতে লাগেজ বা ব্যাগেজ পৌঁছে দেওয়া অপারেটিং কনসোর্টিয়ামের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই শর্ত বা সময়সীমা লঙ্ঘিত হলে বেবিচকের পক্ষ থেকে কঠোর আর্থিক জরিমানার সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পর এই আধুনিক থার্ড টার্মিনাল শাহজালাল বিমানবন্দরের বর্তমান বার্ষিক সক্ষমতাকে প্রায় চার গুণ বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে বিশ্বমানের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০টি বিশাল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অনায়াসে পরিচালনা করা সম্ভব হবে, যা দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa