https://asia24.tv


গ্রেফতার চালক ও হেলপার। ছবি: -সংগৃহীত
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে জমি বিক্রির টাকাসহ ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাস ভাড়া দেওয়ার সময় কোমরে রাখা বিপুল পরিমাণ অর্থ দেখে ফেলায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বাস চালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯)। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।
তিনি জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে বিমানবন্দরগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখ ও হাত স্কচটেপে পেঁচানো এবং গলায় শ্বাসরোধের দাগসহ অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। পরবর্তীতে ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাহায্যে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। নিহত ইসমাইল হোসেন জামালপুরে নিজ গ্রামের জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এক্সপ্রেসওয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসটির গতিবিধি সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসটি জব্দসহ সুপারভাইজার সাজু ও হেলপার মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল চালক সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে, ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে জামালপুর থেকে ইসমাইল বাসে ওঠেন। সুপারভাইজার সাজু ভাড়া নেওয়ার সময় ইসমাইলের কোমরের লুঙ্গির ভাঁজে রাখা মোটা অঙ্কের টাকা দেখে ফেলে চালক সোহেলকে বিষয়টি জানান। চালক তাৎক্ষণিক টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা আঁকেন। নির্দিষ্ট গন্তব্যে ইসমাইলকে নামিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে বাসে রেখে অন্য সব যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়।
বাসটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে হেলপার ও সুপারভাইজার মিলে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে ইসমাইলের মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর বাসটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে মহাখালীর দিকে গিয়ে ইউটার্ন নেওয়ার সময় চলন্ত বাস থেকে লাশটি এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর কাছে প্রায় ৫ লাখ টাকা থাকলেও চালক ও সহযোগীরা সেখান থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।


