ঢাকা
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertise with us

নেপালে বন্যার ৯ দিন পরও সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৫ বার পঠিত
নেপালে বন্যার ৯ দিন পরও সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধার

ছবি: -সংগৃহীত

পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে ধসে পড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে একটানা নয় দিন আটকে থাকার পর অবশেষে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সুড়ঙ্গের গভীর থেকে এখনও ভেসে আসছে অন্য উদ্ধারপ্রত্যাশীদের আর্তনাদ ও কণ্ঠস্বর। বৈরী আবহাওয়ার তোয়াক্কা না করে পরিচালিত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানের মধ্য দিয়ে হিমালয় কন্যা নেপালে উন্মোচিত হলো এক বিরল অলৌকিক দৃশ্য।

নেপালের নুয়াকোট জেলায় অবস্থিত ‘ত্রিশূলী ৩এ’ নামের এক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে মূল অঘটনটি ঘটে। আকস্মিক বন্যায় সুড়ঙ্গমুখ পলি ও কাদায় বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে আটকা পড়েন প্রায় ৪২ জন কর্মী। তাঁদের উদ্ধারে টানা খননকাজ চালিয়ে যান উদ্ধারকর্মীরা। একটি সরু ছিদ্র বের করে সেখান থেকেই অত্যন্ত নিরাপদে দুজনকে বাইরে বের করে আনা হয়। তাঁদের উদ্ধারের সময় আনন্দে ফেটে পড়েন সেখানে উপস্থিত সহকর্মীরা।

নুয়াকোট জেলা পুলিশ বিভাগের প্রধান বিপিন রেজমি নিশ্চিত করেছেন যে, ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের অভ্যন্তর থেকে স্পষ্ট মানুষের গলার আওয়াজ শুনতে পাওয়া গেছে। ভেতরে কতজন আটকে আছেন তা নির্ধারণ করা না গেলেও জীবন বাঁচাতে তাঁদের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনার নিমিত্তে জরুরি চিকিৎসক দল পাঠানো হয়েছে দুর্ঘটনাস্থলে।

ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় নির্মিত একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দেশি-বিদেশি অসংখ্য কর্মী নিয়োজিত ছিলেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে তাদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন উদ্ধারকারীরা। পুরো অঞ্চলজুড়ে কাদা আর বালুর আস্তরণ জমে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

উদ্ধার বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, সম্পূর্ণ অন্ধকার ও আলো বাতাসহীন আবদ্ধ সুড়ঙ্গে কোনো আলো ছাড়াই বন্দি থাকলে একসময় মানসিকভাবে দিশেহারা হয়ে পড়ে মানুষ। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা অতিক্রম হওয়ার পর দেখা দেয় দৃষ্টিভ্রম বা হ্যালুসিনেশনের মতো বৈকল্য। তবে সব বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ আর দীর্ঘ সময়কে দুমড়েমুচড়ে এমন অলৌকিক বেঁচে থাকা নতুন করে আশার আলো ছড়াচ্ছে দুর্যোগপীড়িত নেপালে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa