https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
টানা ১১তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে সাময়িক অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। রাজধানী তেহরানসহ বুশেহর, খুজেস্তান, তাবরিজ ও সিস্তান প্রদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করতেই তাদের কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার ও নৌ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা বুশেহরে দুটি বিস্ফোরণের পর ইরানের সামরিক দপ্তর ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ সতর্ক করে জানিয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
এদিকে চলমান ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কংগ্রেসের এক শুনানিতে পেন্টাগনের পক্ষে এই তথ্য প্রকাশ করে তিনি যুদ্ধের জন্য জরুরি অতিরিক্ত অর্থায়নের আবেদন জানান। এর আগে গত মার্চে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছে আরও ৯০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বাজেট দাবি করেন, যার বড় অংশই এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য।
পেন্টাগনের এই বিপুল খরচের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটে মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে। শুনানিতে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অর্থসংকটের কারণে সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানো পেন্টাগনের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। তাই পেন্টাগন প্রধান ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট অনুমোদনেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা এই ব্যয়বহুল ও অজনপ্রিয় যুদ্ধকে মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করছে। উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই অভিযোগ করেছেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে হোয়াইট হাউস যুদ্ধের পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসকে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি।


