https://asia24.tv


হাইকোর্ট। ছবি: -ফাইল ছবি
ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের জন্য অন্তত স্নাতক সমমানের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ খান ও কাজী ফেরদৌসুল হাসান ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ২৬ ধারায় প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা না থাকাকে চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করেন। আবেদনে বলা হয়, কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের সুযোগ বিদ্যমান আইনের একটি বড় সীমাবদ্ধতা।
আইনজীবীদের যুক্তি অনুযায়ী, গ্রাম আদালত আইন ২০০৬-এর অধীনে একজন ইউপি চেয়ারম্যান বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন এবং সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড আরোপ করতে পারেন—যা ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার সমপর্যায়ের। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের ন্যূনতম আইন বিষয়ের স্নাতক হতে হলেও চেয়ারম্যান পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করা স্বেচ্ছাচারী। উপযুক্ত শিক্ষার অভাব আইনগত দায়িত্ব পালনে বাধা তৈরি করে, যা সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদের (বিশেষ করে ৭, ২৭, ২৮, ৫৯ ও ৬০ নম্বর অনুচ্ছেদ) মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
হাইকোর্টের জারি করা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (অন্তত স্নাতক) নিশ্চিত করতে ব্যর্থ ইউপি আইনের ২৬ ধারা কেন বেআইনি ও সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না।
স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কাজী ফেরদৌসুল হাসান ও মো. রুহুল আমিন, আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ।


