https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশন (BMF)। একই সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে কর্মী পাঠানোর আগে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, ব্যয়-সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও অধিকারভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, মালয়েশিয়া আগামী ছয় মাসে প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহী। প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য বা ন্যূনতম ব্যয়ে পাঠানোর উদ্যোগ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান BOESL-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনাকে BMF ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
তবে BMF মনে করে, শুধু কতজন কর্মী বিদেশে পাঠানো হলো, তা দিয়ে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সাফল্য মূল্যায়ন করা যাবে না। কর্মী কত খরচে গেলেন, চাকরি ও বেতন নিশ্চিত ছিল কি না, কর্মপরিবেশ কেমন এবং সমস্যায় পড়লে কার্যকর প্রতিকার পেলেন কি না, সেটিই হওয়া উচিত সাফল্যের মূল সূচক।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে নতুন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ রয়েছে। এর আগে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের প্রভাব, প্রতিশ্রুত চাকরি না পাওয়া এবং শ্রমিক হয়রানি ও শোষণের নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। তাই অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
BMF-এর চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, “মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে হবে, কিন্তু অতীতের মতো শ্রমিকের পকেট খালি করে নয়; শ্রমিকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই।”
BMF-এর ১০ দফা দাবি
১. নিয়োগ ব্যয় শূন্য বা সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনতে হবে এবং Employer Pays Principle বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মী শূন্য খরচে পাঠানোর উদ্যোগের নির্বাচন প্রক্রিয়া, নিয়োগকর্তা, বেতন ও চাকরির শর্ত জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
৩. সরকারি অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার আগে কর্মীর কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. চাকরি নিশ্চিত না করে কোনো কর্মীকে বিদেশে পাঠানো যাবে না। কর্মীকে বেতন, কাজের ধরন, কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম, আবাসন ও অন্যান্য শর্ত লিখিতভাবে জানাতে হবে।
৫. কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ যাতে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি করতে হবে।
৬. নিয়োগকর্তার প্রকৃত কর্মী চাহিদা, বৈধতা, বেতন দেওয়ার সক্ষমতা ও শ্রম অধিকার রেকর্ড যাচাই করতে হবে।
৭. মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ২৪/৭ হেল্পলাইন, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা এবং জরুরি আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. পূর্বে প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টি সমাধান করতে হবে।
৯. নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে অভিবাসী অধিকার সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি, গবেষক ও নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
১০. শ্রমবাজারের বারবার বন্ধ ও খোলার অনিশ্চয়তা দূর করতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি, জবাবদিহিমূলক শ্রম অভিবাসন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
BMF মনে করে, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর এই উদ্যোগকে “কতজন কর্মী পাঠানো হলো” দিয়ে নয়, বরং “কতজন কর্মী নিরাপদ, ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন” দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে।
BMF সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি উন্মুক্ত জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে শ্রমিকবান্ধব নিয়োগ কাঠামো ঘোষণা করা হোক।
বিদেশে কর্মসংস্থান হোক, কিন্তু প্রতারণা নয়।
অভিবাসন হোক, কিন্তু ঋণের বোঝা নয়।
নিয়োগ হোক, কিন্তু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নয়।
উন্নয়ন হোক, কিন্তু শ্রমিকের অধিকার বিসর্জন দিয়ে নয়।
প্রবাসী ও অভিবাসী কর্মী কোনো পণ্য নয়। তারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের অংশীদার।


