https://asia24.tv


প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। ছবি: -সংগৃহীত
বাংলাদেশে চিরস্থায়ীভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের একটি ইতিবাচক সংস্কৃতি চালু করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের অডিটরিয়ামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে পুলিশ বাহিনীর প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত আইজি এ কে এম আওলাদ হোসেন ও খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন। এতে পুলিশের বিভিন্ন রেঞ্জ ডিআইজি, কমিশনার ও পুলিশ সুপার পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমানে বিশ্ব দরবারে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের একটি উজ্জ্বল রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই দৃষ্টান্তমূলক পরিবেশ নির্মাণে পুলিশ বাহিনী মূল ভূমিকা পালন করেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের যেমন আইনি দায়িত্ব, তেমনি কমিশনকে সার্বিক সুরক্ষা দেওয়া পুলিশের আইনি বাধ্যবাধকতা।
সিইসি নাসির উদ্দিন আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অনেকটাই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও অধিক গ্রহণযোগ্য মানদণ্ডে উন্নীত করতে পুলিশকে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, কমিশনের পক্ষ থেকে পুলিশকে কোনো ধরনের অন্যায্য নির্দেশ দেওয়া হবে না।
সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির জানান, সংবিধান অনুযায়ী কমিশনের দিকনির্দেশনা মেনে নিরাপদ ও শান্তিময় ভোটের পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। তবে বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম গুজব, অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে পুলিশকে কঠোর আইনি নজরদারি রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতকৃত প্রশাসনিক রোডম্যাপ এবং এক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে পুলিশ বাহিনীর ১১৪টি কেন্দ্রে কনস্টেবল থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের প্রায় ৩৯ হাজার সদস্যকে বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।


