https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিতে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) গভীর রাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচির আয়োজন করেন, যেখানে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির শীর্ষ নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক ও প্রশাসনিক ভবন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘২৪-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ এবং ‘তদবিরের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ সহ নিয়োগে দলীয়করণবিরোধী বিভিন্ন ক্ষুব্ধ স্লোগানে চারপাশ মুখরিত করে তোলেন।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফি বলেন, অতীতে লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ মেধার পরিচয় দেওয়ার পরও কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অসংখ্য চাকরিপ্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় পরিকল্পিত বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এখন নতুন করে ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও চরম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হবে।
আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে নোবিপ্রবি শিবির সেক্রেটারি আব্দুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। অথচ সরকার ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে নিয়োগে জালিয়াতি ঠেকাতে না পেরে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
একই সুর মিলিয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম বলেন, যোগ্যতা ও মেধা যাচাইকে পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক পছন্দের প্রার্থীদের ব্যাকডোর দিয়ে নিয়োগ দিতেই কোটা পদ্ধতির নতুন সংস্করণ হিসেবে ভাইভার নম্বর বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানো এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দক্ষ ও চটপটে প্রশাসনিক জনবল কাঠামোর স্বার্থেই এই সংস্কার আনা হচ্ছে, তবে দেশের সার্বিক চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থী সমাজে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।


