https://asia24.tv


মশক নিধন অভিযান। ছবি: -ফাইল ছবি
দেশে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকি তীব্র আকার ধারণ করায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করেছে সরকার। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগ কিংবা অক্টোবরের শুরুতে সংক্রমণ সর্বোচ্চ চুড়ায় পৌঁছানোর আশঙ্কায় এই জরুরি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মশাবাহিত এই আশঙ্কাজনক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৫৭১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে এবং মোট শনাক্তের সংখ্যা ৪৫ হাজার ৩৯৪ জন ছাড়িয়েছে।
সংক্রমণের উর্ধগতি নিয়ন্ত্রণে গত মার্চ মাস থেকেই প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি লার্ভা ধ্বংস ও অপরাধীদের শাস্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করতে দেশের সব সিভিল সার্জনকে নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জুম মিটিংয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ডেঙ্গু আক্রান্তদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি ও হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোগীদের চাপ সামাল দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্মুক্ত মাঠে একটি জরুরি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দূরপ্রান্তের রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০০ জন চিকিৎসককে দেওয়া হয়েছে বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুর সব ধরনের পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে মোট শয্যার ১০ শতাংশে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া এবং প্যাথলজিক্যাল সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহযোগিতায় জাতীয় চিকিৎসার গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কিংবা কিটের যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য নিজস্ব ফান্ড থেকে সরাসরি কেনাকাটা করার জন্য হাসপাতাল প্রধানদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. জাকারিয়া মাহমুদ নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে স্যালাইন ও পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত রয়েছে। হাসপাতালে মশারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে মসজিদের ইমাম ও স্কুল হেলথ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্কাউট, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের সামগ্রিক কার্যক্রম তদারকি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সাধনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ টাস্কফোর্স। আইইডিসিআরের সহায়তায় সার্বিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি তদারকি করতে একটি সার্বক্ষণিক বিশেষ সেলও চালু রাখা হয়েছে।


