https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
ব্যাংক খাত পুনর্গঠন ও আমানতকারীদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে আলোচিত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এর বহুল বিতর্কিত ১৮ (ক) ধারাটি বিলুপ্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একীভূত হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় পুঞ্জীভূত অনিয়মে জড়িত পুরোনো পরিচালকদের পুনরায় শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ফিরে আসার সুযোগ রোধ করতেই নতুন সংশোধনী আনা হয়েছে। তীব্র গণআলোচনা ও আপত্তির মুখে এই পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিল অর্থ মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার ১৩তম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ কার্যদিবসে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে পেশকৃত এই বিলে মূল আইনের বিতর্কিত ধারাটি পুরোপুরি বাতিলের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখা হয়।
আগের বিলে অন্তর্ভুক্ত ১৮ (ক) ধারার ধারক হিসেবে বলা হয়েছিল, বিশেষ কিছু শর্ত পূরণের সাপেক্ষে দেউলিয়া বা সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক উদ্যোক্তারা পুনরায় মালিকানা পাওয়ার আবেদন জানাতে পারবেন। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী শিবিরের অভিযোগ ছিল—এই বিধান ব্যবহার করে যেসব ব্যক্তি পূর্বে ব্যাংক লুটপাট ও আর্থিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিলেন, তারা আবারও পেছনের দরজা দিয়ে কর্তৃত্ব দখলের সুযোগ পেতেন, যা সমগ্র অর্থনীতি ও আমানতকারীদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াত।
পেশকৃত সংশোধনী বিলে প্রস্তাবনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে সচল রাখা, মূলধন ঘাটতি মেটানো ও সরকারি দায় কমানোর লক্ষ্যে একটি আপদকালীন বাজারভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল। তবে এ যাবৎ এই ধারার অধীনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন পেশ করেনি। সার্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা ও নীতিগত স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শেষ পর্যন্ত এই ধারাটি রহিত করার আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হলো।
প্রসঙ্গক্রমে, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল পাস হওয়া মূল আইনে এই অনুচ্ছেদটি যুক্ত থাকার সময় থেকেই পার্লামেন্টে তীব্র আপত্তি ওঠে। ব্যাংক লুটেরাদের আইনি সুরক্ষার সুবিধা দেওয়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই নতুন বিল পাসের মাধ্যমে তার স্থায়ী অবসান হতে যাচ্ছে।


