https://asia24.tv


ভোলায় তথ্যমন্ত্রী। ছবি: -সংগৃহীত
গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করবে, তবে সাংবাদিকদের কলমের লেখায় যেন অহেতুক কারও কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।
তিনি বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম শক্ত ভিত্তি। সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠভাবে সরকারের ভালো ও মন্দ উভয় দিক তুলে ধরবেন এবং গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। কিন্তু অনভিপ্রেত অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে কারও ব্যক্তিগত জীবন, পেশাগত ক্যারিয়ার ও সামাজিক মান-সম্মান যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেটি খেয়াল রাখা নৈতিক দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা প্রেসক্লাবের হলরুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গণমাধ্যমের সার্বিক স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, তিনি গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের অনুচিত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কিংবা চাপ সৃষ্টির রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাস করেন না। কোনো সাংবাদিক তাঁর পক্ষে বা বিপক্ষে লিখলেন কি না—সেটিকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা অথবা সংবাদ প্রকাশের জেরে কারও পেশাগত চাকরিচ্যুত করার মতো নীতিহীন কাজ তিনি সমর্থন করেন না।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার দেশে সম্পূর্ণ মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ দেখতে চায়। সাংবাদিকরা স্বাধীন মতামত প্রকাশ করবেন এবং সরকারের কাজ কোথায় কোথায় ভুল হচ্ছে তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করবেন, যাতে সরকার নিজের ভুল সংশোধন করে জনকল্যাণমূলক কাজ ত্বরান্বিত করতে পারে।
ভোলা জেলায় সরকারের সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মান ধরে রাখা এবং স্থানীয় বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের কড়া নজর রাখার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্রেফ আইন বা কড়া নীতি প্রণয়ন করে কাউকে জোর করে নৈতিকভাবে ভালো করা যায় না। অসম্পূর্ণ তথ্য বা অর্ধসত্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ যেমন ক্ষতিকর, তেমনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারও মাত্রাতিরিক্ত তোষামোদ করাও স্বাধীন সাংবাদিকতার আদর্শের পরিপন্থী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ‘সাইবার বুলিং’ ও ভুয়া তথ্যের মহামারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পার্থ বলেন, অনলাইনে অসত্য তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে বর্তমানে মানুষ সত্য সংবাদকেও সহজে বিশ্বাস করতে পারছে না। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে মূলধারার গণমাধ্যমকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।
একই সঙ্গে ভোলা অঞ্চলে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারকে প্রধান সামাজিক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করেন মন্ত্রী। তরুণ প্রজন্মকে এই ধ্বংসাত্মক পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি ইউনিয়নে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিউনিটি পুলিশিং গঠন এবং মাদকবিরোধী বিশেষ কমিটি গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।
ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক অনুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন লিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওসার এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ স্থানীয় বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা ও প্রবীণ সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন।


