https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই সহজ শর্ত ও নামমাত্র সুদের প্রি-ফাইন্যান্স ফান্ড থেকে ঋণের প্রথম কিস্তি অর্থাৎ ২৫ শতাংশ অর্থ ছাড় করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তহবিলটির পূর্ণাঙ্গ অংশ বিতরণ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
রাজধানীতে ইনস্টিটিউট অভ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অভ বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত ‘আ ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম ফর ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এই ঘোষণা দেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান উল্লেখ করেন, কম খরচের এই বিশেষ বাণিজ্যিক অর্থায়নের ইতিবাচক প্রভাব আগামী অর্থবছরের শুরুতেই জাতীয় অর্থনীতিতে দৃশ্যমান হতে শুরু করবে।
তহবিল বরাদ্দের রূপরেখা সম্পর্কে গভর্নর জানান, দেশের প্রান্তিক কৃষক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের (এসএমই) অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাই এই স্কিমের প্রধান লক্ষ্য। সে কারণে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের প্রকৃত ঋণগ্রহীতাদের হাতে দ্রুত তহবিল পৌঁছে দেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতিপূর্বে সরকারি খাতে প্রয়োজনীয় ঋণপ্রবাহ বজায় রাখতে ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬’ ঘোষণা করেছিল।
একই অনুষ্ঠানে সর্বজনীন ডিজিটাল লেনদেন মাধ্যম ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট পদ্ধতির অগ্রগতি পর্যালোচনার সময় গভর্নর নীতিগত কড়াকড়ির বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, নির্দেশিকা বাস্তবায়নে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও তা সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার কোনো রকম ব্যত্যয় ঘটলে নিয়ামক সংস্থা হিসেবে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারিও জারি রাখা হয়েছিল। বর্তমানে স্থানীয় ব্যবসায় নিবন্ধনের জন্য এই কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পদ্ধতিটি প্রবর্তনের শুরুতে মার্চেন্ট সংখ্যা ছিল ৮ লাখ, যা সম্প্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখে। ক্যাশলেস লেনদেন বাড়লে অনৈতিক চাঁদাবাজি কমবে এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সংগ্রহ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
দেশের বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গের ওপর আলোকপাত করে গভর্নর মন্তব্য করেন, ডাটা বা তথ্য সংগ্রহের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় আধুনিকায়নের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। চাল ও আরেকটি অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের দরবৃদ্ধির সাময়িক প্রভাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শীঘ্রই সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার সহনীয় মাত্রায় নেমে আসবে। নীতি সুদহারের ওপর চাপ সামলে আগামী দিনগুলোতে সাধারণের ভোগব্যয় ও মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের কাছাকাছি নামিয়ে আনার ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।


