ঢাকা
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত নিরাপত্তা চায় এনসিপি কম্বোডিয়ার স্ক্যাম কেন্দ্র থেকে উদ্ধার ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফেরত ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি  উল্টো পথে চলায় বিমানমন্ত্রীর গাড়িতে ট্রাফিক পুলিশি মামলা সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে-বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদ ও রাজনীতিতে নারীর কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিত্ব বাড়েনি : শামা ওবায়েদ তিন বছরে চার শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী গণমাধ্যম স্বাধীন, তবে কলমে যেন কারও ক্ষতি না হয়: তথ্যমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে নিষ্ঠার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ২০২৭ সালের দুই পর্বে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা
Advertise with us

শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত নিরাপত্তা চায় এনসিপি

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ২ বার পঠিত
শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত নিরাপত্তা চায় এনসিপি

ছবি: -সংগৃহীত

ছয় দফা দাবিতে আগামী শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হলে তা মোকাবিলা করে লংমার্চ সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দলটি। একই সঙ্গে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত সমন্বয় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা এসব কথা বলেন।

জোটের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট দূর করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৭টা থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় নেতাকর্মীদের জমায়েত শুরু হবে। সেখানে সকাল ৮টা পর্যন্ত জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। এরপর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবে।

কর্মসূচির সূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার নূরজাহান হোটেলের বিপরীতে খালি জায়গায় সমাবেশ ও খাবারের বিরতি রাখা হয়েছে। বেলা ৩টার দিকে ফেনীর মহিপালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে লংমার্চের।

এরপর বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পৌঁছে সেখানে আরেকটি সমাবেশ করা হবে। সবশেষে রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর পর সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হবে। পর্যায়ক্রমে রংপুর, সিলেট ও খুলনাতেও লংমার্চ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জনদুর্ভোগ কমানো এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবিতেই এ লংমার্চের আয়োজন। তিনি কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, শুরুতে লংমার্চে পাঁচ থেকে ছয় হাজার গাড়ি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে জ্বালানি সংকট ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে প্রায় এক হাজার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে এরই মধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রশাসনের পরামর্শ অনুযায়ী কর্মসূচির বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুলিশের পরামর্শে সড়কে এক সারিতে গাড়িবহর চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এবং নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। তাই লংমার্চের কারণে যেন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও না বাড়ে, সে বিষয়ে আয়োজকদের সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে যানজটের কারণে কোনো অ্যাম্বুলেন্স যাতে আটকে না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

লংমার্চে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের কথা শুনতেই তারা বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন। রাস্তার পাশে এসে মানুষের সঙ্গে কথা বলে নতুন বাংলাদেশ গঠনের বিষয়ে মতবিনিময় করতে চান তারা। লংমার্চের পর যেসব মানুষের কাছে তারা যাবেন, তাদের সঙ্গে নিয়েই ঢাকায় সমাবেশ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

লংমার্চে জ্বালানি ব্যবহারের সমালোচনার জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

লংমার্চের পুরো পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ওপর কেউ হামলা করে যেন এর দায় এনসিপির ওপর চাপাতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় লংমার্চে যোগ দিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সরকারি দলের নেতাকর্মী ও অনুসারীরা হুমকি ও হয়রানি করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, অতীতে যারা জুলুমের শিকার হয়েছেন, তাদের একই ধরনের আচরণ করা উচিত নয়। অন্যথায় পরিস্থিতি উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় দলের রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa