ঢাকা
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি  উল্টো পথে চলায় বিমানমন্ত্রীর গাড়িতে ট্রাফিক পুলিশি মামলা সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে-বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদ ও রাজনীতিতে নারীর কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিত্ব বাড়েনি : শামা ওবায়েদ তিন বছরে চার শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী গণমাধ্যম স্বাধীন, তবে কলমে যেন কারও ক্ষতি না হয়: তথ্যমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে নিষ্ঠার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ২০২৭ সালের দুই পর্বে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত উন্নতি ঘটছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক
Advertise with us

সংসদ ও রাজনীতিতে নারীর কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিত্ব বাড়েনি : শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ১৯ বার পঠিত
সংসদ ও রাজনীতিতে নারীর কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিত্ব বাড়েনি : শামা ওবায়েদ

ছবি: -প্রতিনিধি

দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি সাধিত হলেও জাতীয় সংসদ ও মূলধারার রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ এখনো পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সামাজিক পরিবর্তনও প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের চিন্তাভাবনায় নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। রাষ্ট্রের পক্ষে একা এই সামাজিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সিডও দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে নারীদের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও রাজনীতি জড়িয়ে আছে। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত নারীদের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণ এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তিনি বলেন, যোগ্যতা অনুযায়ী নারীদের রাজনীতিতে জায়গা দিতে হবে। নতুন প্রজন্ম রাজনীতিতে আসছে- এটি ইতিবাচক। কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে থাকা তরুণীদের সংখ্যা এখনো খুব কম। একই সঙ্গে নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও আরও সচেতনতা প্রয়োজন।

শামা ওবায়েদ বলেন, এটি শুধু রাষ্ট্র বা সরকারের সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক সমস্যা। একটি সরকার একা এ সমস্যার সমাধান করতে পারে না। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী-পুরুষের সমতার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

ডিজিটাল পরিসরে নারীদের হয়রানি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মূলধারার গণমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মানুষ অনেক সময় প্রচলিত গণমাধ্যমের চেয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি মনোযোগ দেয়। এর পাশাপাশি ডিজিটাল হয়রানিও ব্যাপক বেড়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল হয়রানির বিষয়টি এখন শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনেক সময় দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য দেশেও এ ধরনের হয়রানি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এটি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

ডিজিটাল পরিসরে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি এ উদ্যোগে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট নারী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চান।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে শুধু অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। নারীর নিরাপদ চলাচল ও জীবনযাপনও নিশ্চিত করতে হবে। নারীর উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তারা নিরাপদে বাঁচতে পারবেন এবং অন্যায়ের শিকার হলে দ্রুত ন্যায়সংগত বিচার পাবেন।

নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি শিশু রানিসার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ১৯ দিনের মাথায় রায় দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায়ও আট কর্মদিবসে বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। তবে শুধু আলোচিত কয়েকটি মামলায় দ্রুত বিচার নয়, প্রতিটি নারী ও শিশুর জন্য দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারের জেন্ডার বাজেটে ৩ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের প্রায় ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ। নারী শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান এবং নারীদের জন্য সহায়ক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এতে গুরুত্ব পাবে।

ফ্যামিলি কার্ডের প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, গ্রামীণ নারীরা কৃষিকাজসহ পরিবারের নানা কাজে যুক্ত থাকলেও অনেক সময় তাদের হাতে সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা থাকে না। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের সহায়তা সরাসরি নারীর হাতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তারা পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বিপদের সময় অর্থটি ব্যবহার করতে পারবেন।

নারীর নিরাপত্তায় আলাদা বাস চালুর উদ্যোগের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নারীদের নিরাপত্তার জন্য সরকারকে নতুন নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে। শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাই যথেষ্ট নয়; নিরাপদ পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।

প্রবাসী নারীদের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল টিম গঠন করা হয়েছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি নিবেদিত অভিবাসন শাখাও খোলা হয়েছে।

বিদেশে নারীদের ক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নার্সিং, পরিচর্যাসহ বিভিন্ন পেশায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, নারীরা যেন সম্মানের সঙ্গে ও মর্যাদা নিয়ে বিদেশে গিয়ে কাজ করতে পারেন।

সিডও সনদের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, এ সনদের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার দীর্ঘদিনের। আগামী বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন পর্যালোচনা হবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদনের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের স্বাধীন ও গঠনমূলক মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও নাগরিক সমাজের অংশীদারিত্বমূলক প্রচেষ্টায় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সিডও সনদের বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

সভায় উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি ও দীপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া কে হাসান, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলী, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমী, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর চন্দন লাহিড়ী এবং উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুন নাহার মিষ্টি বক্তব্য দেন।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa