https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
রাজধানীর রাজপথে বেপরোয়া ও উল্টো পথে গাড়ি চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রশিদুজ্জমান মিল্লাতের পতাকাবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মামলা ও জরিমানা আদায় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টা ৮ মিনিটে সার্কিট হাউজ রোড এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশের একটি দল ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড সংবলিত বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৮-২১২৫) থামিয়ে আইনানুগ এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মন্ত্রীকে বহনকারী রেঞ্জ রোভার গাড়িটি উল্টো পথে বেপরোয়া গতিতে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। সে সময় পাশের সড়ক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহরও নির্ধারিত সিগন্যাল মেনে সচিবালয় অভিমুখে অতিক্রম করছিল। ট্রাফিক সার্জন তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটি থামান এবং চালককে জানান যে, ভিআইপি বা সর্বসাধারণ—সবার জন্যই সড়ক পরিবহন আইন অমান্য করে উল্টো পথে চলা গুরুতর অপরাধ।
গাড়ির চালক আরিফ হোসেনের নামে দুটি পৃথক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। বেপরোয়া গতি ও উল্টো পথে গাড়ি চালানোর অপরাধে তিন হাজার করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়। ঘটনার সময় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রশিদুজ্জমান মিল্লাত সরাসরি গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছিলেন।
সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তারা জানান, দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এই প্রথম দায়িত্বরত কোনো মন্ত্রীর অফিশিয়াল গাড়ির বিরুদ্ধে উল্টো পথে চলার কারণে সরাসরি মামলা ও অর্থদণ্ড কার্যকর করা হলো। অতীতে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো কিংবা জট এড়াতে ভিআইপিদের উল্টো পথে চলাচলের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও মাঠপর্যায়ে মামলা দায়েরের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এটিই প্রথম।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়সহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক গুঞ্জন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। সরকারের অভ্যন্তরীণ ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে এই আইনি পদক্ষে পদক্ষেপকে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক শীর্ষ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক আইনকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে সিগন্যাল মেনে চলাচল করছেন, সেখানে কোনো মন্ত্রী বা প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তার গাড়ি উল্টো পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক। এই মামলা প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রের সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও ভিআইপিদের জন্য ট্রাফিক আইন মেনে চলার একটি স্পষ্ট ও সুদৃঢ় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।


