https://asia24.tv


ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। ছবি: -সংগৃহীত
রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ২২৭ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫১ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৩৯ জনকে তাদের সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, রুশ সেনাবাহিনীতে এখনও কর্মরত অবশিষ্ট ভারতীয়দের দ্রুত মুক্তি ও দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করছে নয়াদিল্লি।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাষ্ট্রীয় সফর এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই-এর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব এ তথ্য প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, রুশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়োগের বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি বিভিন্ন পর্যায়ে ও বিভিন্ন সময়ে রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে থাকা নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী সর্বমোট ২২৭ জন ভারতীয় নাগরিক রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছিলেন। স্বস্তির বিষয় হলো, নয়াদিল্লির কূটনৈতিক পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই ১৩৯ জনকে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে যুদ্ধের ভয়াবহতায় ৫১ জন নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মস্কোতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে উল্লেখ করে বিক্রম মিশ্রি পুনর্ব্যক্ত করেন, বাকি থাকা সব নাগরিকের দ্রুত মুক্তি ও নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং মস্কোর সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে।
এদিকে সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত নিয়েও আলোচনা করেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি জানান, ভারতীয় রপ্তানিকারকদের সুযোগ বাড়াতে রাশিয়ায় একটি বিশেষ ‘ইন্ডিয়ান এক্সপোর্টার্স ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ইতিপূর্বে ভারতে আয়োজিত ‘রাশিয়ান ইম্পোর্টার্স ফোরাম’-এর সাফল্য এবং উভয় দেশের বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই ইতিবাচক আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে মিশ্রি তুলে ধরেন।
এর আগে বিশকেকে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে এক সুসংহত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বৈশ্বিক শান্তির প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান বিশ্বকে অনন্ত যুদ্ধের মহড়া থেকে বেরিয়ে এসে সংঘাতের স্থায়ী অবসানের পথে হাঁটতে হবে। শীর্ষ দুই নেতার এই বৈঠকে সামরিক প্রবাসীদের প্রত্যাবাসনসহ নানা দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু প্রাধান্য পায়।


