https://asia24.tv


নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে দিল্লি পুলিশ। ছবি: রয়টার্স ছবি: -সংগৃহীত
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নিপীড়নের প্রতিবাদ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। সাড়ে তিন ঘণ্টার অবস্থান শেষে দিল্লি পুলিশ জবরদস্তি করে তাঁদের সরিয়ে দেয়। আটক করার সময় ধস্তাধস্তিতে রাহুল গান্ধীর নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। আটকের প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাঁকে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মুক্তি দেওয়া হয়।
মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। সোমবার হাজার হাজার শিক্ষার্থী সংসদ ভবন অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশ তাঁদের লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে। এর প্রতিবাদে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করলেও কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনায় বসেন।
অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘পুলিশি অত্যাচারের জবাব চাইতে এসেছি। দেশের যুবদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের অপরাধে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’ মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব, সুপ্রিয়া সুলে ও যোগেন্দ্র যাদবসহ অনেক বিরোধী নেতা ধরনায় শামিল হন।
প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সংসদে আলোচনার আশ্বাস দিলেও বিরোধী নেতারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন। এরপরই সন্ধ্যা সাতটায় পুলিশ জোরপূর্বক তাঁদের বাসে তুলে নিয়ে যায়। রাহুল গান্ধীকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত নয়টার দিকে তাঁরা ছাড়া পান।
অন্যদিকে, দুই মাস ধরে চলে আসা এই ছাত্র আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সিজেপি-র আন্দোলনের সমর্থনে ২৫ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সোমবার ৫০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর সংসদ অভিযান ব্যর্থ করতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করলে শতাধিক পুলিশ ও শিক্ষার্থী আহত হন।
আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি ও নিট কেলেঙ্কারিতে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে জানান, চূড়ান্ত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিরোধী দলগুলোর এমন অভূতপূর্ব অবস্থান ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তাপ ছড়িয়েছে।


