ঢাকা
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertise with us

কম্বোডিয়ার স্ক্যাম কেন্দ্র থেকে উদ্ধার ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফেরত

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৭ বার পঠিত
কম্বোডিয়ার স্ক্যাম কেন্দ্র থেকে উদ্ধার ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফেরত

ছবি: -সংগৃহীত

কম্বোডিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত চাকরির প্রলোভন ও চরম প্রতারণার শিকার হয়ে সে দেশের বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কেন্দ্রে আটকে থাকা ৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক অবশেষে দেশে ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ নম্বর একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তাঁরা। বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ফেরত আসা এই নিঃস্ব কর্মীদের জরুরি খাদ্য সহায়তা, প্রদেয় কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় যাতায়াত ভাতা প্রদান করে।

এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে প্রথম দফায় কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি উদ্ধার পেয়ে দেশে ফেরত আসেন। কম্বোডিয়া সরকার ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া অতিরিক্ত সময় অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিন্দুমাত্র জরিমানা ছাড়া স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করার পরই এই ৩৮ জন দেশে ফেরার সুযোগ পান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেখানকার বিভিন্ন বন্দীশিবিরে চরম মানবিক সংকটে পড়ে এখনো প্রায় ১,৮০০ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন।

দেশে ফেরা কর্মীরা সরকারের কাছে অনতিবিলম্বে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত মূল অপরাধী দালালদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, কম্বোডিয়ার ভয়াবহ স্ক্যাম কম্পাউন্ডগুলোতে বাংলাদেশিদের অস্ত্রের মুখে অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণামূলক কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হতো। প্রদত্ত নির্দিষ্ট টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর নামিয়ে আনা হতো নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনকি দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হলেও সেখানকার অবস্থানরত বাংলাদেশি দালালরা হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের প্রত্যাবর্তন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালায়।

শরিফুল হাসান আরও সতর্ক করে বলেন, সাইবার স্ক্যাম বর্তমানে মানবপাচারের সবচেয়ে নৃশংস ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আইটি বিশেষজ্ঞ, কম্পিউটার অপারেটর বা কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভের মতো আকর্ষণীয় পদের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়। পরবর্তীতে থাইল্যান্ড সীমান্ত হয়ে অবৈধভাবে কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস কিংবা ভিয়েতনামে পাচার করে পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত দেড় বছরে অন্তত ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও ছাড়পত্র নিয়ে কম্বোডিয়ায় গিয়েছেন। তবে বাস্তব চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ, যার দরুন সেখানে হাজার হাজার তরুণ চাকরির অভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ জন বাংলাদেশিকে একইভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল। সার্বিক ঝুঁকি বিবেচনায় কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা ছাড়া থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির উদ্দেশে যাত্রা না করার জন্য সাধারণ মানুষকে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa