https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে ‘মব’ বা অনিয়ন্ত্রিত জনতা তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা প্রচলিত আইনের আওতায় কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে আধুনিক এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তের দুর্গম বনাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত ড্রোন ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক ডিজিটাল নজরদারি চালানো হবে। নাইট ভিশন ও থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে রাতের আঁধারে চোরাচালান, মাদকপাচার ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ সম্পূর্ণ রোধ করা সম্ভব হবে। কেবল সীমান্ত সুরক্ষায় নয়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধারকাজ ও দুর্গম স্থানে জরুরি ত্রাণ সরবরাহেও বিজিবির ড্রোনপ্রযুক্তি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এই বিশেষায়িত স্কুলে বিজিবি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে বেসামরিক জনবলকেও উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করতে বিশেষ কোর্সের সুযোগ রাখা হবে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে পেন্টাগন ও বৈশ্বিক মানদণ্ডের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এই স্কুলে যুক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও কঠোর ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে নতুন ডগ স্কোয়াড, বিশেষ ল্যাব ও আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে কৃত্রিম ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করা হলে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে সরকার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবি সিলেট সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
উদ্বোধনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড্রোন ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর লাইভ অপারেশনাল মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় স্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


