https://asia24.tv


হিমালয় অঞ্চলে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: -সংগৃহীত
হিমালয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও চীনে নিহতের সংখ্যা এক হাজার অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া দুই দেশে এখনো চার হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।
এই মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপাল যে চরম ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে, তা বিশ্ব দরবারে জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, রাসুয়া জেলায় বোতে কোশি নদীর প্লাবন কেবল সাধারণ বন্যা ছিল না, বরং হিমালয় অঞ্চলের বিশাল বরফধস থেকে সৃষ্ট অভূতপূর্ব এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলের মানববসতি দিন দিন কতটা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ন্যায়সংগত সহায়তা ও পদক্ষেপ দাবি করার এটিই উপযুক্ত সময়।
ইতোমধ্যে সিএনএন নিশ্চিত করেছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে ১১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে এখনো প্রায় ৬০০ জন আটকে থাকলেও কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালার গলতে থাকা হিমবাহের ওপর পাহাড়ের প্রায় ২৪ কোটি এবং সমতলের ১৬৫ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে নির্ভর করে। ২০২৩ সালে নেপাল সফরকালে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও বরফ গলে ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়া’ নিয়ে জোরালো সতর্কতা উচ্চারণ করেছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনায় জাতিসংঘের জলবায়ুসংক্রান্ত প্রধান সাইমন স্টিয়েলও হিমালয়ের নাজুক বাস্তুসংস্থান নিয়ে গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার কারণে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়া নেপালের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


