https://asia24.tv


নেপালে বন্যা। ছবি: -সংগৃহীত
নেপাল ও চীন সীমান্তে সৃষ্টি হওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৪ হাজার ৪৭১ জন মানুষ। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর ধ্বংসস্তূপ ও ঘন কাদায় আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। খবর সিএনএনের।
নেপালি ও চীনা প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হঠাৎ নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। বন্যায় অসংখ্য বসতি, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধসে গেছে। উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া শত শত অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে গণকবরে দাফন করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
হিমালয় কন্যা নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলে কাদা ও পাথরের ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ায় সেখানে আটকা পড়েছেন শত শত শ্রমিক। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রকল্পে ৯০০ জনেরও বেশি শ্রমিক এখনও নিখোঁজ। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, টানেলের গভীর কাদায় তারা বন্দি হয়ে থাকতে পারেন। সরু ও বিপজ্জনক পথ হওয়ায় টানেলের ভেতরে প্রবেশ করতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।
সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং বন্দর এলাকায় এই দুর্যোগের চরম আঘাত হেনেছে। চীনা রাষ্ট্রীয় মাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, একসময় ব্যস্ত থাকা ওই এলাকায় এখন কেবল একটি পানির টাওয়ার দাঁড়িয়ে আছে এবং বাকি সব স্থাপনা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে গিরং সীমান্ত এলাকায় নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত ও চরম বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে চীনের আবহাওয়া বিভাগ। টানা বৃষ্টিতে স্থানীয় পাহাড়ি ধসের ফলে গঠিত প্রাকৃতিক হ্রদের পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়ে নতুন করে ভয়াবহ বন্যার রূপ নিতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
একদিকে কাদার গভীরতা এবং অন্যদিকে নতুন করে বন্যার ঝুঁকিতে সমগ্র দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা স্থবির হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও উদ্ধারকারী দলগুলো জিপিএস ও আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ধস মোকাবিলায় অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে উভয় দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দুর্যোগের ভয়াবহ চিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার পাইলট জানান, আকাশপথ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর দৃশ্য অত্যন্ত ভয়াবহ ও করুণ দেখাচ্ছে। দুর্গতদের কাছে জরুরি খাদ্য, সুপেয় পানি ও প্রথমিক চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছাতে পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত এয়ারড্রপ চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপাল ও চীনা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সর্বোচ্চ নজরদারি বজায় রেখেছে।


