https://asia24.tv


ভোলার নতুনবাজার চত্বরে তথ্যমন্ত্রী। ছবি: -সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের সার্বিক অর্থনীতির কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দেশকে ঘুরিয়ে দাঁড় করাতে বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলা-১ আসনে পৌঁছালে স্থানীয় নতুনবাজার চত্বরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দেওয়া বর্ণাঢ্য সংবর্ধনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বরিশাল হয়ে স্পিডবোটে ভোলার খেয়াঘাটে এসে পৌঁছালে তথ্যমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জেলা প্রশাসক শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর এবং জেলা বিজেপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতনসহ বিএনপি ও বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
খেয়াঘাট থেকে শহরের নতুনবাজার কার্যালয়ে যাওয়ার পথে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে হাজারো সাধারণ মানুষ নতুন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান, যা সমগ্র ভোলা শহরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
সংবর্ধনা সভায় গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ইতিহাসের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠিন অর্থনৈতিক সময় অতিক্রম করছে। ভোলার কাঙ্ক্ষিত সার্বিক সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন তিনি।
রাজনীতিতে স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য কখনও টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না এবং ভবিষ্যতেও হবেন না। তিনি তাঁর বাবা, বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জুর রাজনৈতিক সততা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে দেশ ও জনগণের সেবা করার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে তিনি সকলের কাছে আন্তরিক দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ আট বছর পর ভোলা থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাওয়ায় জেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা ত্বরান্বিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দিনের নির্ধারিত সার্কিট হাউসের সূচি সংক্ষিপ্ত করে মন্ত্রীকে নিজ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রটোকল অনুযায়ী তাঁকে আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।


