ঢাকা
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫৫, গণকবরে শত শত মরদেহ পেন্টাগনে নীতিগত সংঘাত: পদত্যাগপত্র জমা দিলেন মার্কিন সেনাসচিব আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী: ভূমিমন্ত্রী খুব দ্রুতই কমে আসবে লোডশেডিং: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ২ ঝিনাইদহে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২০ নেপালের আকস্মিক বন্যা: এক বাড়ি থেকেই ২৪ মরদেহ উদ্ধার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আভাস ৬ অঞ্চলে, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত ৪৮ বছরে বিএনপি: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশ গড়ার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
Advertise with us

পেন্টাগনে নীতিগত সংঘাত: পদত্যাগপত্র জমা দিলেন মার্কিন সেনাসচিব

ডেস্ক রিপোর্ট
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ০ বার পঠিত
পেন্টাগনে নীতিগত সংঘাত: পদত্যাগপত্র জমা দিলেন মার্কিন সেনাসচিব

ড্যান ড্রিসকল।  ছবি: -সংগৃহীত

মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নীতিগত বিরোধ ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের জেরে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল। তিনি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক প্রশাসনিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলের মধ্যে বেশ কয়েক মাস ধরে চরম দ্বন্দ্বে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত ড্রিসকলের বিদায় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলের বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

পদত্যাগপত্রে ড্রিসকল সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, যুদ্ধপ্রস্তুতি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ নীতি বাস্তবায়নে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ক্রমাগত বাধার সৃষ্টি করেছেন। বিশেষ করে সামরিক আধুনিকায়নের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন অভিজ্ঞ জেনারেলকে পদ থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত ড্রিসকলকে ভীষণভাবে হতাশ করে। সিএনএন জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের পরই ড্রিসকল আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেন।

মূলত মার্কিন সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ চরমে পৌঁছায়। জেনারেল জর্জের সঙ্গে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক ছিল এবং তিনি জর্জকে একজন অসামান্য পরিবর্তনকারী নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করেছিলেন। জ্যেষ্ঠ জেনারেলদের সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিলেন।

পেন্টাগনের ভেতরের সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ পদে আসার পর থেকেই নিজের কার্যালয়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের আনুগত্য নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। ড্রিসকলের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতাও এই মানসিক দূরত্ব তৈরি করতে ভূমিকা রাখে। ড্রিসকল ও ভ্যান্স ইয়েল ল স্কুলের সহপাঠী ছিলেন। পেন্টাগনের আশঙ্কা ছিল, ড্রিসকল প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছেও ড্রিসকলের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল। ইউক্রেন-রাশিয়া আলোচনার কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ড্রোন প্রযুক্তিতে আধুনিকায়নের অবদানের কারণে ট্রাম্প তাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করতেন। হেগসেথ যখন সংস্কৃতি ও সামাজিক নীতি বিষয়ক বিতর্ক নিয়ে সরব ছিলেন, ড্রিসকল তখন ব্যস্ত ছিলেন প্রযুক্তি ও যুদ্ধ সরঞ্জাম উন্নয়নে।

সম্প্রতি হেগসেথের মেয়াদে সাবেক ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল জেমস মিংগাস ও ট্রান্সফরমেশন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড হোডনসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি ইউরোপ ও আফ্রিকা অঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুও দপ্তর ছাড়তে বাধ্য হন।

ড্রিসকল কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন তা স্পষ্ট না হলেও নীতিগত দিক থেকে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন আন্ডার সেক্রেটারি মাইক ওবাদাল। পদত্যাগের ঘটনা সত্ত্বেও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ড্রিসকলের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং ইউক্রেন সম্পর্কিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ড্রিসকলের অবদান প্রশংসনীয় ছিল।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa