https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সময় বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য ইরানের প্রতি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি।
এ সময় রাষ্ট্রদূতের কাছে এ অনুরোধ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে হুমায়ুন কবির বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখার বিষয়টি কোনো একক পক্ষের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে নানা জটিল বিষয় জড়িত এবং চলমান সংঘাতে একাধিক পক্ষ যুক্ত রয়েছে। তাই উত্তেজনা প্রশমনের একটি যথাযথ কাঠামোর আওতায় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ ও জ্বালানিবাহী নৌযান নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রণালি খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ ও কনটেইনারের চলাচলে দ্রুত ও অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে ইরানকে অনুরোধ করা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, পরিস্থিতি শান্ত ও উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পর আটকে থাকা বাংলাদেশের কার্গো কনটেইনারগুলো যাতে সময়মতো চলাচল করতে পারে, সে বিষয়েও অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তেহরান বাংলাদেশের এই অনুরোধকে ইতিবাচক ও অনুকূলভাবে দেখবে।
বৈঠককে অত্যন্ত ভালো ও সৌহার্দ্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও সংঘাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ সব পক্ষকে সংলাপে বসে কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধান এবং স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ কর্মরত। তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ বাংলাদেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করে যাবে।
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে হুথিদের সৃষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সামুদ্রিক সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন বা আক্রমণকে বাংলাদেশ সমর্থন করে না, এতে অংশও নেয় না এবং এমন কোনো পদক্ষেপের আহ্বানও জানায় না। বাংলাদেশের ভূমিকা হুথিদের সৃষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।


