https://asia24.tv


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: -সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত বোয়িং বিমান কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো বৈদেশিক চাপের মুখে নেই বলে স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানিয়েছেন, বিমান বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ চাহিদাভিত্তিক। জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের বহর বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন বিমান রুট চালু, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং এশিয়ায় বাংলাদেশকে অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত ও ভারতের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর নতুন এক চুক্তির অধীনে অতিরিক্ত বোয়িং ক্রয়ে বাংলাদেশের কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করার প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রী সরকারের এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আরও জানান, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের প্রবৃদ্ধির উদাহরণ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধি করতে বিমানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যে বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি নতুন বিমান কেনার জন্য ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।
অন্য এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়নি। উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সময় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনুকূল পরিবেশের ওপর নির্ভর করে এই সফরের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিগত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন পরবর্তী বাংলাদেশের জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনআকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে নতুন দিল্লিকে ইতিমধ্যেই স্পষ্টভাবে অবগত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সকল প্রতিবেশী ও বৈশ্বিক বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সমতার ভিত্তিতে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভারত তার নিজ সার্বভৌম ভূখণ্ডকে কোনো বাংলাদেশি সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী গোষ্ঠীকে ব্যবহারের সুযোগ না দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।


